সরকারের কথায় বাজার চলে না

0
287

এক সরকারি ঘোষণায় গোটা দেশ কার্যত ‘লকডাউন’ হলেও বাজারগুলো যেন হাতে জাদুর কাঠি নিয়ে বসে আছে। সরকারি আদেশ বা যাবতীয় নির্দেশনা সেখানে কার্যত অচল। সরকারের ঠিক করে দেওয়া দরে চাল পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে না। পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, ছোলা, চিনি, মসুর ডালের মতো নিত্যপণ্যও সরকারের নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে পাওয়া গেছে এ তথ্য।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল ভোজ্যতেলসহ ৬টি পণ্যের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগেই ঠিক করে দিয়েছিল সয়াবিন তেলের দাম। চিনি, পেঁয়াজ, ছোলা, উন্নতমানের মসুর ডাল, সাধারণ মসুর ডাল ও খেজুরের দাম নির্ধারণ করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা কৃষি বিপণন অধিদফতর। দর নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্তও নেয় সরকার। গত সোমবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষি বিপণন অধিদফতর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ।

নির্ধারিত দাম অনুয়ায়ী খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ৪০ টাকা, চিনি ৬৭ থেকে ৬৮ টাকা, ছোলা ৬৩ থেকে ৬৭ টাকা, উন্নতমানের মসুর ডাল ৯৭ থেকে ১০৩ টাকা, সাধারণ মসুর ৬১ থেকে ৬৫ টাকা, সাধারণ মানের খেজুর ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মধ্যম মানের খেজুর ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৩৯ টাকা।

মোবাইল টিম কোথায়?

সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক জানান, এই দর বাস্তবায়নে রাজধানীতে ৩০টি মোবাইল টিম কাজ করছে। কোনও পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অধিদফতর প্রতিবছর ৪১টি নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণে কাজ করে। দেশের উৎপাদন, আমদানি, ক্রয়মূল্য, মজুদ ও চাহিদার তথ্য বিবেচনায় নিয়ে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান মহাপরিচালক।

কিন্তু শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর বাজারগুলোয় মোবাইল টিমের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। কৃষি বিপণন অধিদফতরের কোনও মনিটরং টিম বাজারে নেমেছে বলেও শোনা যায়নি। এ বিষয়ে কেউ কোনও তথ্যও দিতে পারছে না। বিক্রেতারা জানেনই না যে সরকারের একটি সংস্থা কয়েকটি পণ্যের দর ঠিক করে দিয়েছে। উল্টো তারা জানতে চান, কৃষি বিপণন অধিদফতর কিসের ভিত্তিতে এসব পণ্যের দর ঠিক করে?

দর ঠিক না করলে দাম আরও বাড়তো

রাজধানীর কোনাপাড়া বাজারের মুদি ব্যবসায়ী শওকত ট্রেডার্সের মালিক শওকত আলী জানিয়েছেন, আমরা মৌলবীবাজার থেকে চিনি ও সয়াবিন তেল, রহমতগঞ্জ থেকে ছোলা ও মসুর ডাল, শ্যামবাজার থেকে পেঁয়াজ কিনে আনি। সেখানকার দরের সঙ্গে পরিবহন খরচ ও শ্রমিক খরচ যুক্ত করে মুনাফা ঠিক করি। অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারিত দরে পণ্য বিক্রি করি। এর বাইরে অন্য কিছু মেলালে ব্যবসা চলবে না। তিনি জানান, পাইকারি বাজারের সঙ্গে মিল রেখে খুচরা দর ঠিক না করলে ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে।

কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, এসব পণ্যের দর ঠিক করে না দিলে দাম আরও বাড়তো।

দর নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও রাজধানীর বাজারগুলোয় প্রতিটি পণ্যই বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। চালের দাম এখনও দরিদ্রদের নাগালের বাইরে। প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। বোতলজাত সয়াবিনের দামও বাড়তি। উল্টোটা ঘটেছে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে। সরকার দর ঠিক করার আগে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা। ঠিক করার পর হয়ে গেলো ৪০ টাকা।

মানভেদে প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায়। মোটা দানার মসুর ডাল ৬৮ থেকে ৭০ টাকা ও সরু দানার ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকায়। সাধারণ মানের খেজুর ১২০ থেকে ১৬০ ও মধ্যম মানের খেজুর ২২০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, রমজানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম নিয়ে কারসাজি করে। এই কারসাজি ঠেকাতেই দর নির্ধারণ করতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here