মৌলভীবাজার ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
Logo মৌলভীবাজার-৪ এ ত্রিমুখী লড়াই: ঐতিহ্য বনাম নতুন সমীকরণ; কেন্দ্রভিত্তিক উপস্থিতিই নির্ধারণ করবে ফল Logo ছুটি চাইছিলাম পেলাম না, ছেলেটা মারা গেলো, ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ Logo চার পদ্ধতিতে জানা যাবে ভোটকেন্দ্রের তথ্য Logo পবিত্র শবে বরাত আজ Logo তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালাননি, ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে: এম নাসের রহমান Logo কুলাউড়ায় ধানের শীষের প্রার্থী শওকতুল ইসলামের নির্বাচনী কার্যক্রমে সমন্বয় সভা Logo ধানের শীষে ভোট দিলে উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে: নাসের রহমান Logo জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ই-রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ছে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্তআসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে করদাতাদের সুবিধার্থে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর ফলে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল করা যাবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আয়কর আইন অনুযায়ী প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় নির্ধারিত থাকে। তবে চলতি অর্থবছরে ই-রিটার্নে প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় এর আগে দুই দফায় এক মাস করে সময় বাড়ানো হয়। এবার তৃতীয় দফায় সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এনবিআর সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণভোট ও নির্বাচনী প্রচারণার কারণে অনেক করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি। এ প্রেক্ষাপটে করদাতাদের স্বস্তি দিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরও তিন দফা সময় বাড়িয়ে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। এনবিআরের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিয়েছেন ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৮ জন। অর্থাৎ প্রায় ৯০ লাখ করদাতা এখনো রিটার্ন দাখিল করেননি। গত বছর মোট রিটার্ন জমা পড়েছিল ৪৫ লাখ। সময় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহমান খান বলেন, “রিটার্ন দাখিলের শেষ দিকে যদি দেখা যায় যে, যতজন করদাতা নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো রিটার্ন জমা দেননি, তাহলে আমরা সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করব। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।” Logo নির্বাচন উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি Logo দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার ৫৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ

মৌলভীবাজার-৪ এ ত্রিমুখী লড়াই: ঐতিহ্য বনাম নতুন সমীকরণ; কেন্দ্রভিত্তিক উপস্থিতিই নির্ধারণ করবে ফল

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসন বরাবরই জাতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ—এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে মোট ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৮৩,০৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৪২,২১৩ জন, নারী ভোটার ২,৪০,৮৬৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। দুই উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৬৩টি।

জনসংখ্যা ও সামাজিক বিন্যাসের দিক থেকে এ আসনটি দেশের অনেক আসন থেকে ভিন্ন। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক চা-শ্রমিক ও হিন্দু সংখ্যালঘু ভোটারের উপস্থিতি এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত করে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি বা ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সম্মিলিত অবস্থান অতীতের অধিকাংশ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্টের পর জাতীয় রাজনীতিতে যে পালাবদল ঘটেছে, তার প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতেও পড়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও ঐতিহ্যগত ভোটারগোষ্ঠী দেশ ছাড়েননি বা তাদের সামাজিক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে, তবুও ভোটের আচরণে পরিবর্তন আসবে কি না—সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, স্থানীয় উপস্থিতি ও সংগঠনগত শক্তিও এ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ আসনে নির্বাচন করে আসছেন এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একটি শক্তিশালী কাঠামো রয়েছে বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করছেন। ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকখ্যাত এই আসনে জয় পেলে তা বিএনপির জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে—এমন আলোচনা মাঠে রয়েছে। তবে একই সঙ্গে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঐতিহ্যগত ভোটের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. মহসিন মিয়া মধু ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি একাধিকবার শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পৌর এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত সুনাম রয়েছে বলে স্থানীয়দের মত। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার বিষয়টি তাঁর প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি নিজেকে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের মানুষের সেবক হিসেবে উপস্থাপন করছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের ভোটারদের কাছেও সমর্থন চাইছেন। বিশেষ করে পৌরসভা এলাকায় তিনি ভালো অবস্থানে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন তাঁর সমর্থকরা।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মনোনয়ন পাওয়া মাওলানা নূরে আলম হামিদী রিকশা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। কালাপুর ইউনিয়নের বরুনা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তাঁর স্থানীয় যোগাযোগ রয়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমর্থক ও হেফাজতে ইসলামপন্থী ভোটারদের একটি অংশ তাঁর পক্ষে সক্রিয় থাকতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি উল্লেখযোগ্য ভোট পেলে তা বড় দুই প্রার্থীর সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রীতম দাশ। তিনি পরিবর্তনের অঙ্গীকার তুলে ধরে চা-শ্রমিক, সংখ্যালঘু ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের বার্তা দিয়ে তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। যদিও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে বড় দলগুলোর মতো বিস্তৃত কাঠামো নেই, তবুও নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর উপস্থিতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই ধানের শীষ ও ফুটবল প্রতীকের মধ্যে হতে পারে। তবে রিকশা প্রতীকও ভোটের অঙ্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে কে দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ অবস্থানে থাকবেন—তা নির্ভর করবে ভোটের ফলাফলের ওপর। অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন, রিকশা প্রতীক ধানের শীষের কিছু ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে, যা সামগ্রিক ব্যবধানে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনের নির্বাচন এবার ঐতিহ্য বনাম নতুন বাস্তবতার এক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের অবস্থান, পৌর এলাকার ভোটের প্রবণতা, ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংকের প্রভাব এবং সংগঠনগত শক্তি—সবকিছু মিলিয়েই নির্ধারিত হবে ফলাফল। শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী কতজন সমর্থককে ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত করতে পারবেন, সেটিই জয়-পরাজয়ের সবচেয়ে বড় নির্ধারক হিসেবে কাজ করবে। ভোটারদের রায়ই বলে দেবে—ঐতিহ্য বজায় থাকবে, নাকি এ আসনে রচিত হবে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

মৌলভীবাজার-৪ এ ত্রিমুখী লড়াই: ঐতিহ্য বনাম নতুন সমীকরণ; কেন্দ্রভিত্তিক উপস্থিতিই নির্ধারণ করবে ফল

মৌলভীবাজার-৪ এ ত্রিমুখী লড়াই: ঐতিহ্য বনাম নতুন সমীকরণ; কেন্দ্রভিত্তিক উপস্থিতিই নির্ধারণ করবে ফল

আপডেট সময় ০৩:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসন বরাবরই জাতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ—এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে মোট ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৮৩,০৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৪২,২১৩ জন, নারী ভোটার ২,৪০,৮৬৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। দুই উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৬৩টি।

জনসংখ্যা ও সামাজিক বিন্যাসের দিক থেকে এ আসনটি দেশের অনেক আসন থেকে ভিন্ন। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক চা-শ্রমিক ও হিন্দু সংখ্যালঘু ভোটারের উপস্থিতি এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত করে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি বা ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সম্মিলিত অবস্থান অতীতের অধিকাংশ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্টের পর জাতীয় রাজনীতিতে যে পালাবদল ঘটেছে, তার প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতেও পড়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও ঐতিহ্যগত ভোটারগোষ্ঠী দেশ ছাড়েননি বা তাদের সামাজিক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে, তবুও ভোটের আচরণে পরিবর্তন আসবে কি না—সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, স্থানীয় উপস্থিতি ও সংগঠনগত শক্তিও এ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ আসনে নির্বাচন করে আসছেন এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একটি শক্তিশালী কাঠামো রয়েছে বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করছেন। ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকখ্যাত এই আসনে জয় পেলে তা বিএনপির জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে—এমন আলোচনা মাঠে রয়েছে। তবে একই সঙ্গে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঐতিহ্যগত ভোটের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. মহসিন মিয়া মধু ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি একাধিকবার শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পৌর এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত সুনাম রয়েছে বলে স্থানীয়দের মত। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার বিষয়টি তাঁর প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি নিজেকে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের মানুষের সেবক হিসেবে উপস্থাপন করছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের ভোটারদের কাছেও সমর্থন চাইছেন। বিশেষ করে পৌরসভা এলাকায় তিনি ভালো অবস্থানে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন তাঁর সমর্থকরা।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মনোনয়ন পাওয়া মাওলানা নূরে আলম হামিদী রিকশা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। কালাপুর ইউনিয়নের বরুনা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তাঁর স্থানীয় যোগাযোগ রয়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমর্থক ও হেফাজতে ইসলামপন্থী ভোটারদের একটি অংশ তাঁর পক্ষে সক্রিয় থাকতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি উল্লেখযোগ্য ভোট পেলে তা বড় দুই প্রার্থীর সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রীতম দাশ। তিনি পরিবর্তনের অঙ্গীকার তুলে ধরে চা-শ্রমিক, সংখ্যালঘু ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের বার্তা দিয়ে তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। যদিও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে বড় দলগুলোর মতো বিস্তৃত কাঠামো নেই, তবুও নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর উপস্থিতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই ধানের শীষ ও ফুটবল প্রতীকের মধ্যে হতে পারে। তবে রিকশা প্রতীকও ভোটের অঙ্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে কে দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ অবস্থানে থাকবেন—তা নির্ভর করবে ভোটের ফলাফলের ওপর। অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন, রিকশা প্রতীক ধানের শীষের কিছু ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে, যা সামগ্রিক ব্যবধানে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনের নির্বাচন এবার ঐতিহ্য বনাম নতুন বাস্তবতার এক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের অবস্থান, পৌর এলাকার ভোটের প্রবণতা, ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংকের প্রভাব এবং সংগঠনগত শক্তি—সবকিছু মিলিয়েই নির্ধারিত হবে ফলাফল। শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী কতজন সমর্থককে ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত করতে পারবেন, সেটিই জয়-পরাজয়ের সবচেয়ে বড় নির্ধারক হিসেবে কাজ করবে। ভোটারদের রায়ই বলে দেবে—ঐতিহ্য বজায় থাকবে, নাকি এ আসনে রচিত হবে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।