মৌলভীবাজার ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
Logo পবিত্র শবে বরাত আজ Logo তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালাননি, ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে: এম নাসের রহমান Logo কুলাউড়ায় ধানের শীষের প্রার্থী শওকতুল ইসলামের নির্বাচনী কার্যক্রমে সমন্বয় সভা Logo ধানের শীষে ভোট দিলে উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে: নাসের রহমান Logo জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ই-রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ছে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্তআসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে করদাতাদের সুবিধার্থে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর ফলে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল করা যাবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আয়কর আইন অনুযায়ী প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় নির্ধারিত থাকে। তবে চলতি অর্থবছরে ই-রিটার্নে প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় এর আগে দুই দফায় এক মাস করে সময় বাড়ানো হয়। এবার তৃতীয় দফায় সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এনবিআর সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণভোট ও নির্বাচনী প্রচারণার কারণে অনেক করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি। এ প্রেক্ষাপটে করদাতাদের স্বস্তি দিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরও তিন দফা সময় বাড়িয়ে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। এনবিআরের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিয়েছেন ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৮ জন। অর্থাৎ প্রায় ৯০ লাখ করদাতা এখনো রিটার্ন দাখিল করেননি। গত বছর মোট রিটার্ন জমা পড়েছিল ৪৫ লাখ। সময় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহমান খান বলেন, “রিটার্ন দাখিলের শেষ দিকে যদি দেখা যায় যে, যতজন করদাতা নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো রিটার্ন জমা দেননি, তাহলে আমরা সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করব। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।” Logo নির্বাচন উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি Logo দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার ৫৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ Logo শায়েস্তাগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৮৮ বস্তা ভারতীয় জিরা উদ্ধার, আটক ১ Logo দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড শ্রীমঙ্গলে Logo দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে

ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা থাকলে প্রতিষ্ঠান ঠিক হবে না; টি বোর্ডের চেয়ারম্যান

  • এম এ রকিব
  • আপডেট সময় ০৫:২৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 517

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন চা শিল্পের উন্নয়ন ও ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন

ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা থাকলে কখনো কোনো প্রতিষ্ঠান ঠিক হবে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন (এসইউপি, এনডিসি, পিএসসি) বলেছেন,

“আমাকে টি রিসোর্টে চা দেওয়া হলো। কথার ছলে আমি জানতে চাইলাম, এটা কোথাকার চা? তারা জানায়, বাইরে থেকে কিনে নিয়ে এসেছে। আমাদের তিনটা বাগান থাকার পর, নিজস্ব প্রোডাক্ট থাকার পর, বাজার থেকে চা কিনে কেন খাওয়াবেন? সেটা উত্তর আমি এখনো পাইনি। সকালে আরেকটা জিনিস জানলাম, আমাদের সেল সেন্টারে একটা ছেলে ছিল। তিন লাখ টাকা সে পকেটে নিয়ে চলে গেছে। একজন সেল সেন্টারের কর্মচারীর পকেটে তিন লাখ টাকা কেন থাকবে? সে প্রতিদিন চা বিক্রি করছে ৯-১০ হাজার টাকা। তাহলে তিন লাখ টাকা একসঙ্গে করতে তার কত দিন সময় লেগেছে? অন্তত ৩০টা সেল, মানে ৩০ দিন লেগেছে। আমার ম্যানেজমেন্টের কেউ খবরও নেয়নি যে, ওই কর্মচারী চা বিক্রির পরে টাকাটা অ্যাকাউন্টে জমা দেয়নি। তাহলে আমাদের কী লাভ হবে? এগুলো হচ্ছে আমাদের ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা। প্রত্যেকটা সেক্টরের যদি আমরা ম্যানেজমেন্ট ঠিক করি, তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র (বিটিআরআই) কর্তৃক আয়োজিত প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটে ‘সেমিনার অন দ্য ইউজ অব বিটিআরআই অপ্টিমাইজড টেকনোলজিস ফর দ্য স্টেকহোল্ডারস’ (Seminar on The Use of BTRI Optimized Technologies for the Stakeholders) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শেফালী বনার্জির পরিচালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের নব নিযুক্ত সদস্য এবং যুগ্ম সচিব ড. পীযূষ দত্ত। এ সময় বক্তব্য রাখেন ফিনলে টি কোম্পানির সিইও তাহসিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রকল্প পরিচালক ড. এ. কে. এম. রফিকুল হক।

এ সময় টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, “আমি গত ২৩ অক্টোবর টি বোর্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে অনেক বাগানের মালিক এবং ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের নিজস্ব গার্ডেনগুলো ঘুরে দেখেছি। তারা বাগানে লোকসানের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এভাবে বাগান চালানো সম্ভব না বলে জানান। কিন্তু একেকটা বাগানে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী রয়েছেন। এই সেক্টরটা যদি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এবং এভাবে বাগানগুলোকে লোকসান দিতে হয়, তাহলে আমার মনে হয় না কেউ টি বিজনেসে ইন্টারেস্টেড হবে। আমি নিজে কোনো গার্ডেনের ওনার হলে এভাবে লোকসান দিয়ে বাগান চালিয়ে যেতাম না।”

তিনি উপস্থিত সকলের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, “বড় বড় কোম্পানি বা ফ্যাক্টরিগুলো কি বছরের পর বছর এভাবে লোকসান দিয়ে চলছে? না। এখানে দুটি ক্লাস হয়ে গেছে। একটা চায়ের ভালো দাম পাচ্ছে, আরেকটা ঠিক থাকতে পারছে না, অনেকটা সাঁতার না জানার মতো। যারা ঠিক থাকতে পারছে না তাদের ম্যানেজমেন্টের সমস্যা আছে। সেটা দূর করতে হবে। কারো মাথায় ব্যথা হলে কেউ ম্যাসাজ করে, কেউ প্যারাসিটামল সেবন করে আবার কারো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে। সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে এবং কোয়ালিটি প্রোডাকশন করতে হবে। চায়ের প্রতি কেজির এভারেজ সেল যদি ২৩০ টাকা থাকে, তাহলে কোনো বাগানে লোকসান হবে না। আমি সেটা দেখিয়ে দেব।”

তিনি বলেন, “যদিও আমাদের এই সেক্টরটা একটা ক্রিটিক্যাল টাইম পার করছে। এই সেক্টরে যারা জড়িত তাদের বলবো উন্নতি করতে হলে ডিপলি ইনভলভ থাকতে হবে। গার্ডেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ম্যানেজার। একটা বাগানের ম্যানেজার ঠিক থাকলে কোনোভাবেই বাগানে লোকসান হবে না। ম্যানেজার ঠিক না থাকলে কোনোভাবেই বাগান লাভবান হবে না। চা বাগান লোকসানের জন্য টি বোর্ডকেও দায় নিতে হবে। কারণ টি বোর্ড এর সঙ্গে জড়িত।”

বাগান মালিকদের উদ্দেশে টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আরও বলেন, “চা এবং এই সেক্টরের উন্নতির জন্য প্রতি বছর আমরা ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা খরচ করি। আমাদের গবেষকরা অনেক দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। এই দক্ষতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন এবং যে কোনো সহায়তা নিন। আপনারা আইডেন্টিফাই করুন আপনাদের বাগানের দুর্বলতাগুলো। আমি চাকে কৃষি প্রোডাক্ট হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব পাঠিয়েছি, যাতে কৃষি ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়। আমি কাজ করে যাচ্ছি। কাজ করতে কখনো দ্বিধাবোধ করব না। আপনারাও কাজ করুন, আমি ধরিয়ে দেব কোথায় কোথায় সমস্যা আছে। প্রয়োজনে আমি নিজে আপনাদের গার্ডেনে যাব।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “সেল প্রাইসটা কম থাকায় কতটুকু লাভে থাকবে টি গার্ডেনগুলো সেটা বছরের শেষে বলা যাবে। তবে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চেয়ে কম হবে না বরং বেশি হবে। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০৪ মিলিয়ন কেজির মতো। এবার আমরা কাছাকাছি চলে যাব। তবে এক্সপোর্টের দিক থেকে গতবারের চেয়ে লক্ষ্যমাত্রা এবার বেশি আছে।”

তিনি বলেন, “অকশন প্রাইসটা মার্কেট প্রাইস থেকে কম আছে বর্তমানে। এটি নিয়ে আমরা অকশন ব্রোকারদের সঙ্গে মিটিংয়ের ব্যবস্থা করেছি এবং যারা মূল স্টেকহোল্ডার আছেন, যেমন ইস্পাহানি, আবুল খায়ের গ্রুপ—তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। অকশন প্রাইসটা আরেকটু বাড়ানো যায় কিনা তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা চিন্তা করছি ওভারঅল চায়ের সেল প্রাইসটা আরও ভালো পর্যায়ে নিয়ে আসার।”

পবিত্র শবে বরাত আজ

ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা থাকলে প্রতিষ্ঠান ঠিক হবে না; টি বোর্ডের চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ০৫:২৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪

ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা থাকলে কখনো কোনো প্রতিষ্ঠান ঠিক হবে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন (এসইউপি, এনডিসি, পিএসসি) বলেছেন,

“আমাকে টি রিসোর্টে চা দেওয়া হলো। কথার ছলে আমি জানতে চাইলাম, এটা কোথাকার চা? তারা জানায়, বাইরে থেকে কিনে নিয়ে এসেছে। আমাদের তিনটা বাগান থাকার পর, নিজস্ব প্রোডাক্ট থাকার পর, বাজার থেকে চা কিনে কেন খাওয়াবেন? সেটা উত্তর আমি এখনো পাইনি। সকালে আরেকটা জিনিস জানলাম, আমাদের সেল সেন্টারে একটা ছেলে ছিল। তিন লাখ টাকা সে পকেটে নিয়ে চলে গেছে। একজন সেল সেন্টারের কর্মচারীর পকেটে তিন লাখ টাকা কেন থাকবে? সে প্রতিদিন চা বিক্রি করছে ৯-১০ হাজার টাকা। তাহলে তিন লাখ টাকা একসঙ্গে করতে তার কত দিন সময় লেগেছে? অন্তত ৩০টা সেল, মানে ৩০ দিন লেগেছে। আমার ম্যানেজমেন্টের কেউ খবরও নেয়নি যে, ওই কর্মচারী চা বিক্রির পরে টাকাটা অ্যাকাউন্টে জমা দেয়নি। তাহলে আমাদের কী লাভ হবে? এগুলো হচ্ছে আমাদের ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা। প্রত্যেকটা সেক্টরের যদি আমরা ম্যানেজমেন্ট ঠিক করি, তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র (বিটিআরআই) কর্তৃক আয়োজিত প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটে ‘সেমিনার অন দ্য ইউজ অব বিটিআরআই অপ্টিমাইজড টেকনোলজিস ফর দ্য স্টেকহোল্ডারস’ (Seminar on The Use of BTRI Optimized Technologies for the Stakeholders) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শেফালী বনার্জির পরিচালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের নব নিযুক্ত সদস্য এবং যুগ্ম সচিব ড. পীযূষ দত্ত। এ সময় বক্তব্য রাখেন ফিনলে টি কোম্পানির সিইও তাহসিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রকল্প পরিচালক ড. এ. কে. এম. রফিকুল হক।

এ সময় টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, “আমি গত ২৩ অক্টোবর টি বোর্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে অনেক বাগানের মালিক এবং ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের নিজস্ব গার্ডেনগুলো ঘুরে দেখেছি। তারা বাগানে লোকসানের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এভাবে বাগান চালানো সম্ভব না বলে জানান। কিন্তু একেকটা বাগানে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী রয়েছেন। এই সেক্টরটা যদি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এবং এভাবে বাগানগুলোকে লোকসান দিতে হয়, তাহলে আমার মনে হয় না কেউ টি বিজনেসে ইন্টারেস্টেড হবে। আমি নিজে কোনো গার্ডেনের ওনার হলে এভাবে লোকসান দিয়ে বাগান চালিয়ে যেতাম না।”

তিনি উপস্থিত সকলের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, “বড় বড় কোম্পানি বা ফ্যাক্টরিগুলো কি বছরের পর বছর এভাবে লোকসান দিয়ে চলছে? না। এখানে দুটি ক্লাস হয়ে গেছে। একটা চায়ের ভালো দাম পাচ্ছে, আরেকটা ঠিক থাকতে পারছে না, অনেকটা সাঁতার না জানার মতো। যারা ঠিক থাকতে পারছে না তাদের ম্যানেজমেন্টের সমস্যা আছে। সেটা দূর করতে হবে। কারো মাথায় ব্যথা হলে কেউ ম্যাসাজ করে, কেউ প্যারাসিটামল সেবন করে আবার কারো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে। সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে এবং কোয়ালিটি প্রোডাকশন করতে হবে। চায়ের প্রতি কেজির এভারেজ সেল যদি ২৩০ টাকা থাকে, তাহলে কোনো বাগানে লোকসান হবে না। আমি সেটা দেখিয়ে দেব।”

তিনি বলেন, “যদিও আমাদের এই সেক্টরটা একটা ক্রিটিক্যাল টাইম পার করছে। এই সেক্টরে যারা জড়িত তাদের বলবো উন্নতি করতে হলে ডিপলি ইনভলভ থাকতে হবে। গার্ডেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ম্যানেজার। একটা বাগানের ম্যানেজার ঠিক থাকলে কোনোভাবেই বাগানে লোকসান হবে না। ম্যানেজার ঠিক না থাকলে কোনোভাবেই বাগান লাভবান হবে না। চা বাগান লোকসানের জন্য টি বোর্ডকেও দায় নিতে হবে। কারণ টি বোর্ড এর সঙ্গে জড়িত।”

বাগান মালিকদের উদ্দেশে টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আরও বলেন, “চা এবং এই সেক্টরের উন্নতির জন্য প্রতি বছর আমরা ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা খরচ করি। আমাদের গবেষকরা অনেক দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। এই দক্ষতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন এবং যে কোনো সহায়তা নিন। আপনারা আইডেন্টিফাই করুন আপনাদের বাগানের দুর্বলতাগুলো। আমি চাকে কৃষি প্রোডাক্ট হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব পাঠিয়েছি, যাতে কৃষি ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়। আমি কাজ করে যাচ্ছি। কাজ করতে কখনো দ্বিধাবোধ করব না। আপনারাও কাজ করুন, আমি ধরিয়ে দেব কোথায় কোথায় সমস্যা আছে। প্রয়োজনে আমি নিজে আপনাদের গার্ডেনে যাব।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “সেল প্রাইসটা কম থাকায় কতটুকু লাভে থাকবে টি গার্ডেনগুলো সেটা বছরের শেষে বলা যাবে। তবে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চেয়ে কম হবে না বরং বেশি হবে। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০৪ মিলিয়ন কেজির মতো। এবার আমরা কাছাকাছি চলে যাব। তবে এক্সপোর্টের দিক থেকে গতবারের চেয়ে লক্ষ্যমাত্রা এবার বেশি আছে।”

তিনি বলেন, “অকশন প্রাইসটা মার্কেট প্রাইস থেকে কম আছে বর্তমানে। এটি নিয়ে আমরা অকশন ব্রোকারদের সঙ্গে মিটিংয়ের ব্যবস্থা করেছি এবং যারা মূল স্টেকহোল্ডার আছেন, যেমন ইস্পাহানি, আবুল খায়ের গ্রুপ—তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। অকশন প্রাইসটা আরেকটু বাড়ানো যায় কিনা তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা চিন্তা করছি ওভারঅল চায়ের সেল প্রাইসটা আরও ভালো পর্যায়ে নিয়ে আসার।”