শ্রীমঙ্গলের গদার বাজার এলাকায় রোববার রাত ১১টার দিকে টমটম পার্কিং নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা রাত ২টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এ সময় ১৫টি টমটম এবং ১টি প্রাইভেট কার ভাঙচুর হয় এবং ৩৯ জন আহত হন। সংঘর্ষের কারণে শহরের ঈদ কেনাকাটা করতে আসা মানুষ আতঙ্কিত হয়ে শহর ছেড়ে পালিয়ে যান, ফলে ঈদের আনন্দ পুরোপুরি বিঘ্নিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের হবিগঞ্জ সড়কের গদার বাজার এলাকায় বেশ কয়েক মাস আগে বিএনপি নেতা শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু একটি বিনা লাভের বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। তবে, পূর্বে এই বাজার টমটম চালকদের রিকশা স্ট্যান্ড ছিল বলে জানা গেছে। চাঁদ রাতে (রোববার) বাজার পরিদর্শনে আসেন মধু মিয়া, তখন সেখানে পার্ক করা টমটম দেখে তিনি চালকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময়, সাবেক ইউপি সদস্য আনার মেম্বার টমটম চালকদের পক্ষ নিয়ে মধু মিয়ার সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে এক পর্যায়ে, মধু মিয়া ও তার লোকজনের সাথে ইউপি সদস্যের মধ্যে শুরু হয় চরম উত্তেজনা। এ সময় মধু মিয়ার লোকজন প্রায় ১৫টি টমটম ভাঙচুর করে এবং পরে শহরের ভানুগাছ সড়কে সাগর নামে এক পরিবহন শ্রমিক নেতার প্রাইভেট কারও ভাঙচুর করেন।
এ ঘটনার পর, পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামে খবর পৌঁছালে মসজিদের মাইকে এলাউন্স করে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে শহরের দিকে মিছিল করে মেয়র বিএনপি নেতা মধু মিয়ার বাসায় আক্রমণ করতে আসেন। এই অবস্থায়, শহরের চৌমুহনাতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। অন্যদিকে, মেয়রের সমর্থকরা স্টেশন রোড থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গ্রামবাসীর ওপর। এক পর্যায়ে, পুলিশ সরে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ৩৯ জন আহত হন এবং গুরুতর আহত এক পথচারী জয় চৌধুরীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ পরিস্থিতির মধ্যে শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যান। পরে রাত ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসন সেনাবাহিনীকে খবর দিলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেনাবাহিনী মধু মিয়ার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। এ সময় মধু মিয়া, তার ছেলে মুরাদ হোসেন সুমন, ভাই সেলিম আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর আলকাছ মিয়া সহ ১৩ জন এবং পশ্চিম ভাড়াউড়ায় সেনাবাহিনীর অভিযান চালিয়ে অপর পক্ষ আনার মেম্বারের ছেলেকেও আটক করে। আটককৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন জানিয়েছেন, রোববার রাতে শহরে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারতো। তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে না পারলে, সেনাবাহিনীকে ডাকা হয়েছিল। বর্তমানে শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
চাঁদ রাতের এই পরিস্থিতিতে শহরের অনেক ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে দেয়ার কারণে তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। শ্রীমঙ্গল শহরে এ ধরনের ঘটনা কেউই আশা করেননি বলে জানিয়েছেন সুশীল সমাজ তথা ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।