মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চলতি শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এদিন সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ও সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তিনি বলেন, “এটি আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগের দিন বুধবার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা দুই দিন ধরে শ্রীমঙ্গলে চলতি বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে।”
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিন শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করতে পারে। তবে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে, ফলে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষজন। বিশেষ করে চা বাগান ও বস্তি এলাকার বাসিন্দারা শীতবস্ত্রের অভাবে ভোরের দিকে গাছের পাতা, শুকনো খড়কুটো ও কাঠকুটো কুড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করছেন। শীতের কারণে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশার কারণে সন্ধ্যা নামতেই শ্রীমঙ্গল শহর ও আশপাশের এলাকায় লোকজন ঘরে ফিরছেন। খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, শীতবস্ত্র বিতরণসহ শীত মোকাবিলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব থাকায় শ্রীমঙ্গলে এ ধরনের তাপমাত্রা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সবাইকে প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বাইরে না যাওয়ার এবং শীত থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সজিব উদ্দিন হেলাল 










