ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo শ্রীমঙ্গলে মক্তবে যাওয়ার পথে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১ Logo শ্রীমঙ্গলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিতরণ করবেন তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড Logo দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, দেশে ফেরাতে শুরু হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া Logo শ্রীমঙ্গলে কৃষকদের মাঝে এবি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণ Logo শ্রীমঙ্গলে লেবু বাগানের কাঁটাতারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু Logo ১০ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস Logo মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: যুবকের মৃত্যুদণ্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা Logo ঈদ ও পর্যটকদের আগমন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন Logo তেহরানে পাকিস্তান সেনাপ্রধান-ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক Logo মৌলভীবাজারে বাসার ছাদ থেকে পড়ে গৃহকর্মী হালিমার মৃত্যু

সুলতানি আমলে মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ’সূরা মসজিদ’

সূরা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সূরা মসজিদ সুলতানি আমলের এক অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবেগের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রাচীন মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, মসজিদটি আলাউদ্দিন হোসেন শাহ-এর শাসনামলে (খ্রিষ্টীয় ১৫শ–১৬শ শতক) নির্মিত। স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণ বৈশিষ্ট্যে সে সময়ের সুলতানি আমলের শিল্পরীতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

দর্শনার্থীদের মিলনমেলা

প্রতিদিনই মসজিদ প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকলেও ছুটির দিন ও বিকেল বেলায় ভিড় তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মানতের খাবার বিতরণ করেন। এতে করে মসজিদ প্রাঙ্গণ ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে অনন্যতা

সূরা মসজিদটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত—মূল নামাজ কক্ষ ও বারান্দা।

  • মূল নামাজ কক্ষের পরিমাপ প্রায় ৭.৮৪ মিটার × ৭.৪৪ মিটার।
  • বারান্দার পরিমাপ আনুমানিক ৪.৮৪ মিটার × ৩.১২ মিটার।

ছোট আকৃতির ইট ও চুন-সুরকির মিশ্রণে নির্মিত মসজিদটির দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ১.৪০ থেকে ১.৮০ মিটার, যা সে সময়ের স্থাপত্য দক্ষতার প্রমাণ বহন করে।

মূল নামাজ কক্ষের ছাদ একটি অর্ধবৃত্তাকার গম্বুজ দ্বারা আবৃত। বারান্দার উপর রয়েছে এক সারিতে তিনটি গম্বুজ। নামাজ কক্ষের চার কোণে চারটি এবং বারান্দায় দুটি পাথরের বুরুজ স্থাপন করা হয়েছে, যা স্থাপনার দৃঢ়তা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।

পূর্ব দিকে তিনটি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে পৃথক দরজা। বারান্দার উত্তর ও দক্ষিণ পাশেও আলাদা প্রবেশপথ দেখা যায়।

মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে তিনটি অলংকৃত অবতল পাথরের মিহরাব রয়েছে, যা শৈল্পিক নকশায় সমৃদ্ধ। বাইরের দেয়ালে দুটি সারিতে অলংকৃত ইটের প্যানেল ও মাঝখানে পাথরের বন্ডিং ব্যান্ড সুলতানি আমলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য বহন করে।

সংরক্ষণে জোর দাবি

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, যথাযথ সংরক্ষণ ও আধুনিক সুবিধা সংযোজনের মাধ্যমে সূরা মসজিদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে যেমন ইতিহাস সংরক্ষিত হবে, তেমনি বাড়বে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ।

ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি আজও অতীতের গৌরবগাথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইতিহাসপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে চলেছে।

মুক্তবার্তা২৪.কম/ সউহে

Write Your Comment

শ্রীমঙ্গলে মক্তবে যাওয়ার পথে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১

সুলতানি আমলে মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ’সূরা মসজিদ’

আপডেট সময় ০৩:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সূরা মসজিদ সুলতানি আমলের এক অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবেগের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রাচীন মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, মসজিদটি আলাউদ্দিন হোসেন শাহ-এর শাসনামলে (খ্রিষ্টীয় ১৫শ–১৬শ শতক) নির্মিত। স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণ বৈশিষ্ট্যে সে সময়ের সুলতানি আমলের শিল্পরীতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

দর্শনার্থীদের মিলনমেলা

প্রতিদিনই মসজিদ প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকলেও ছুটির দিন ও বিকেল বেলায় ভিড় তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মানতের খাবার বিতরণ করেন। এতে করে মসজিদ প্রাঙ্গণ ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে অনন্যতা

সূরা মসজিদটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত—মূল নামাজ কক্ষ ও বারান্দা।

  • মূল নামাজ কক্ষের পরিমাপ প্রায় ৭.৮৪ মিটার × ৭.৪৪ মিটার।
  • বারান্দার পরিমাপ আনুমানিক ৪.৮৪ মিটার × ৩.১২ মিটার।

ছোট আকৃতির ইট ও চুন-সুরকির মিশ্রণে নির্মিত মসজিদটির দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ১.৪০ থেকে ১.৮০ মিটার, যা সে সময়ের স্থাপত্য দক্ষতার প্রমাণ বহন করে।

মূল নামাজ কক্ষের ছাদ একটি অর্ধবৃত্তাকার গম্বুজ দ্বারা আবৃত। বারান্দার উপর রয়েছে এক সারিতে তিনটি গম্বুজ। নামাজ কক্ষের চার কোণে চারটি এবং বারান্দায় দুটি পাথরের বুরুজ স্থাপন করা হয়েছে, যা স্থাপনার দৃঢ়তা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।

পূর্ব দিকে তিনটি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে পৃথক দরজা। বারান্দার উত্তর ও দক্ষিণ পাশেও আলাদা প্রবেশপথ দেখা যায়।

মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে তিনটি অলংকৃত অবতল পাথরের মিহরাব রয়েছে, যা শৈল্পিক নকশায় সমৃদ্ধ। বাইরের দেয়ালে দুটি সারিতে অলংকৃত ইটের প্যানেল ও মাঝখানে পাথরের বন্ডিং ব্যান্ড সুলতানি আমলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য বহন করে।

সংরক্ষণে জোর দাবি

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, যথাযথ সংরক্ষণ ও আধুনিক সুবিধা সংযোজনের মাধ্যমে সূরা মসজিদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে যেমন ইতিহাস সংরক্ষিত হবে, তেমনি বাড়বে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ।

ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি আজও অতীতের গৌরবগাথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইতিহাসপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে চলেছে।

মুক্তবার্তা২৪.কম/ সউহে