হযরত মোহাম্মাদ মোস্তফা (সাঃ) মাঠির তৈরী নাকি নূরের তৈরী। এ নিয়ে উলামা গণের মধ্যে রয়েছে মতবিরোধ। প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসের তৈরী তা নিয়ে দিনের পর দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ওয়াজ মাহফিলেও শুনা যায় ভিন্নতা। তাই সিরাজ নগর দরবার শরিফের বড় শাহেব জাদা আল্লামা মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ উনার ফেইসবুক পেইজ Mufti Shaik Shibbir Ahmad পরিস্কার করেছেন নবী কিসের তৈরী। আলোচনায় তিনি মুফতি আলাউদ্দীন জিহাদীকে উনার দরবারে এ ব্যাপারে আলোচনার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
নিচে উনার মন্তব্য হুবহু তুলে ধরা হল।
প্রিয় নবী নিজেই নূর (হিছ্ছী ও আঁকলি অর্থাৎ রুহানি ও জিছমানিতে)
আলা হযরত, আজিমুল বারাকাত সিলাতুস- সাফা ফি নুরিল মোস্তফা কিতাবে এব্যাপারে সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন——
اقول: اگر نور نبیک میں اضافت بیانیہ نہ لو بلکہ نور سے وہی معنی مشہور یعنی روشنی کہ عرض و کیفیت ہے مراد لو تو سید عالم صلی اللہ تعالی علیہ وسلم اول مخلوق نہ ہوئے بلکہ ایک عرض و صفت، پھر وجود موصوف سے پہلے صفت کا وجود کیونکر ممکن؟ لا جرم حضور ہی خود وہ نور ہیں کہ سب سے پہلے مخلوق ہوا-
অর্থাৎ আমি বলি, যদি নূরা-নাবীয়িকা এর মধ্যে ইজাফাতে বয়ানীয়া না ধরা হয়, বরং এই নূর দ্বারা কথিত মাশহুর অর্থে রুশনী যাহা আরজ (তথা অন্যের উপর নির্ভরশীল) ও কাইফিয়াত (তথা ঘঠন পদ্ধতি) মুরাদ নেওয়া হয়, তবে সাইয়েদুল আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম সৃষ্টি হবেন না।(কেননা এর দ্বারা বুঝায় সর্বপ্রথম আল্লাহ নূর সৃষ্টি করেছেন, এই নূর হবে প্রথম সৃষ্টি আর এই নূর দ্বারা প্রিয় নবীকে সৃষ্টি করেছেন, তাই তিনি হবেন দ্বিতীয় সৃষ্টি ) বরং এক আরজ ও সিফাত হবে, অতএব মাওসুফের পূর্বে সিফাতের অস্তিত্ব কিভাবে সম্ভব?(কারণ এর দ্বারা প্রিয় নবীকে আল্লাহ পাক অন্য উপাদান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন সেটা লাযিম হয়ে যায়। মূলত আল্লাহ পাক কোন উপাদান ছাড়াই তাঁর হেকমতে কামিলা দ্বারা প্রিয় নবীকে সৃষ্টি করেছেন। আর সেটাই হচ্ছে প্রিয় নবীর নূর মোবারক ) নিঃসন্দেহে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ই নিজেই সেই নুর, যেই নূর সর্বপ্রথম মাখলুক।
অতএব, আমার স্নেহের আলাউদ্দীন জিহাদী আ’লা হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহির কিতাব থেকে যতই প্রমাণ করার চেষ্টা করুক
না কেন; যে নবী #নূরের তৈরি# তা কখনো প্রমাণিত হচ্ছে না।
হ্যা, জিসমানিতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ত্বিনত-তুরবত দ্বারা সৃষ্ট, নাকি মদিনার সেই ত্বিনত-তুরবত যেটি প্রকৃতপক্ষে নূর, বাহাউল আরদ ও বাইদাউম মুনির ছিল, সেইটি নিয়ে আলাদা কথা। আমরা বলি, যেটি মদিনার ত্বিনত ছিল সেটি প্রকৃতপক্ষে মাটি ছিল না, সেটিও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নুর, যা হতে সারা জাহান সৃষ্টি, সেই নূরেরই অংশবিশেষ।
কথা হবে দুটি, হয় তার তাহক্বিকাতে বিশ্বাসী হবেন, আর না হয় দ্বিমত পোষণ করবেন। যদি বিশ্বাসী হন, তাহলে ফতোয়ায়ে রেজভীয়া সহ আ’লা হযরতের অন্যান্য লিখনির উপর আপনার আপত্তি কেন? তাই যদি হয়, তবে এটা তো স্পষ্ট যে, আপনি আ’লা হযরত আজিমুল বরাকাতের দর্শনের খেলাফ মনগড়া মতামত প্রচার ও প্রসারে সবার শীর্ষে। যেমটি গত ২৮/০৪/২০২৪ ইং আলাউদ্দিন জিহাদীর পোস্টে;
“# মাটি ও নুতফার তৈরি প্রসঙ্গ
আ‘লা হযরত (رحمة الله)-এর ফতোয়ায়ে আফ্রিকায় বর্ণিত একটি হাদিসের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। উক্ত হাদিসটি নিয়ে সমাজের কিছু নামধারী আলেম রাসূল (ﷺ)কে তাঁর রওযা মোবারকের মাটি দ্বারা সৃষ্টি তা প্রমাণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
ইমাম আহমদ রেযা খাঁন ফাযেলে বেরলভী (رحمة الله) তাঁর ফতোয়ায়ে আফ্রিকা ৮৯ পৃষ্ঠায় খতিবে বাগদাদীর বরাতে মানব সৃষ্টির ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে উক্ত হাদিসটি উলেখ করেন আমি, আবু বকর, উমর একই মাটির তৈরী এবং একই জায়গায় দাফন হব। আমাদের কতিপয় হযরতগণ দাবী করে থাকেন যে, ইমাম আহমদ রেযা খাঁন রহ. রাসূল (ﷺ) কে মাটির তৈরি বলেছেন। নাউযুবিল্লাহ!
অপরদিকে এটি আ‘লা হযরত রহ. এর কথা বা উক্তি নয়, বরং তিনি একটি রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন মাত্র। আমাদের কতিপয় বিভ্রান্ত আলেম এ জাল হাদিসকে তাঁর অভিমত বলে চালিয়ে দিতে চান।”#
(১) ফতোয়ায়ে আফ্রিকায় বর্ণিত একটি হাদিসের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে।(অর্থাৎ রওযা মোবারকের মাটি দ্বারা সৃষ্টি )
(২)আ’লা হযরত (رحمة الله) হাদিস বর্ণনাকারী নন বরং খতিবে বাগদাদী রহ. এই হাদিস তাঁর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন বলে আ’লা হযরত (رحمة الله) তাঁর কিতাব থেকে হাদিসটি সংকলন করেছেন।
(৩)এটি আ‘লা হযরত রহ. এর কথা বা উক্তি নয়, বরং তিনি একটি রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন মাত্র।
তিনি (আলাউদ্দীন জিহাদী) যার থেকে কপি পেস্ট করেছেন, আদৌ কি তিনি আ’লা হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহির ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন? যদি করেও থাকেন, তাহলে আমি বলব, আ’লা হযরতের উপর পান্ডিতের অপব্যবহার করছেন। যা আদৌ ঠিক নয়।
সহি হাদিস শরীফের আলোকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র নূরানী দেহ মোবারক মদিনার ত্বিনত-তুরবত থেকে সৃষ্ট।
দলিল নিম্নে প্রদত্ত করা হলো:
يخلق الانسان من تربة الارض التي يدفن فيها
(অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষ ওই মাটি থেকে সৃষ্টি যেই মাটিতে তাকে দাফন করা হবে) এই শিরোনামে উল্লেখ করেন:
وكان نفس الرسول انما خلقت من تربة المدينة؛ فحينئذ تلك التربة لها فضيلة بارزة على سائر الارض
অর্থাৎ নফসে রাসুল(জিসমে রাসুল) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার তুরবাত থেকে সৃষ্টি এমতাবস্থায় ওই মাটির ফজিলত সমস্ত জাহানের উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। তারপর তিনি বলেন, আমি বলি :
قلت :ويدل لما ذكر من ان النفس تخلق من تربة دفن ما رواه الحاكم في مستدركه وقال صحيح وله شواهد صحيحة عن ابي سعيد،قال: “مر النبي صلى الله عليه وسلم عند قبر،فقال: قبر من هذا؟فقالوا: فلان الحبشى يا رسول الله، فقال: لا اله الا الله، سیق من ارضه وسمائه الى التربة التي منها خلق”
অর্থাৎ আমি বলি: যা উল্লেখ করা হয়েছে তা দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নিশ্চয়ই প্রত্যেক নফছ তার ঐ দাফনকৃত মাটি হতে সৃষ্ট। যা আল-হাকিম তার মুসতাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি বলেছেন এটি সহীহ এবং এর সহীহ শাওয়াহিদ তথা প্রমাণ রয়েছে। হযরত আবু সাঈদ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের পাশ দিয়ে গমন করলেন, অতঃপর বললেন এই কবরটি কার, সাহাবাগণ বললেন ইয়া রাসুল আল্লাহ ইহা একটি হাবশির কবর। তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই, তাকে তার পৃথিবী ও আকাশ থেকে সেই মাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখান থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
عن يزيد الجريري قال: سمعت ابن سيرين يقول: لو حلفت حلفت صادقا بارا غير شاك ولا مستثن ان الله تعالى خلق نبيه صلى الله عليه وسلم ولا ابا بكر ولا عمر الا من طينة واحده ثم ردهم الى تلك الطينة.
অর্থাৎ ইয়াযিদ আল-জারির সূত্রে, তিনি বলেন: আমি ইবনে সিরীনকে বলতে শুনেছি: তিনি বলেন, যদি আমি শপথ করতাম, তবে শপথ করিয়া বলি, নিঃসন্দেহে কোন সংশয় ব্যতীত এটা সত্য যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও ওমর (রা:) কে একই ত্বিনত থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তার’ই দিকে তাঁদেরকে প্রত্যাবর্তন করা হয়।
#অতএব সামঞ্জস্য হয়ে গেল যে, মদিনার ত্বিনত মূলত মাঠি ছিল না এটাও নূর ছিল। নিম্নে কাবুল আহবারের হাদিসটি প্রদত্ত করা হলো:
وأسند ابن الجوزي في الوفاء عن كعب الأحبار : لما ارد الله عز وجل ان يخلق محمدا صلى الله عليه وسلم امر جبريل فأتاه بالقبضة البيضاء التي هي موضع قبره صلى الله عليه وسلم، فعجنت بما التسنيم، ثم غمست في انهار الجنة، وطيف،بها في السماوات والارض، فعرفت الملائكة محمدا وفضله قبل ان تعرف آدم عليه السلام،
অর্থাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামিন যখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন, তখন তিনি জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার কবরের স্থানটি হতে সাদা এক মুষ্টি আনতে আদেশ দেন। অত:পর উক্ত মুষ্টি জান্নাতের তাসনীম নহরের পানি দ্বারা গোলানো হলো, অত:পর ঐ মুষ্টি নিয়ে আরশ, কুরসী, আকাশ ও পৃথিবীতে ঘুরলেন। ফলে, ফেরেশতাগণ আদম আলাইহিস সালাম’কে চেনার পূর্বে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’কে চিনলেন।
عن كعب الأحبار، قال: لما أراد لله سبحانه وتعالى أن يخلق محمدا صلى الله عليه وسلم أمر جبريل أن يأتيه بالطينة التي هي قلب الأرض وبهاؤها ونورها، فهبط جبريل في ملائكة الفردوس وملائكة الرفيق الأعلى، فقبض قبضة رسول الله صلى الله عليه وسلم من موضع قبره الشريف، وهي بيضاء منير،
অতএব, প্রিয় পাঠক! একদিকে সহি হাদিসের উপর আমল করা হলো, অন্যদিকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরানীয়াত ও প্রমাণিত হয়ে গেল।
কাজী সানাউল্লাহ পানিপথি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর লিখিত তাফসীরে মাযহারীর ৬ষ্ট খন্ডের ১২৬ পৃষ্ঠায় লিখেন:
ودليل قول عطاء ما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من مولد الا وفي سرته من تربة التي يولد منها, فاذا رد الى ارذل عمره رد الى تربته التي خلق منها يدفن فيها،واني وابا بكر وعمر خلقنا من تربة واحده وفيها تدفن، رواه الخطيب عن ابن مسعود وقال غريب واورده ابن الجوزي في الموضوعات،قال الشيخ المحدث مرزا محمد الحارثى البدخشي رحمه الله ان لهذا الحديث شواهد عن ابن عمر وابن عباس وابي سعد وابي هريره يتقوى بعضها ببعض فهو حديث حسن-
অর্থাৎ আতা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্যে প্রমাণ হল যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাহা বলেছেন: এমন কোন সন্তান নেই, যে তার নাভিতে ঐ মাটি নেই, যে মাটি দ্বারা সে জন্মেছে। অতঃপর যখন সে তার শেষ বয়সে উপনীত হবে, তখন সে ওই মাটির দিকে প্রত্যাবর্তন করবে, যাহা থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। নিশ্চয়ই আমি, আবু বকর ও ওমর একই মাটি হইতে সৃষ্টি আর তথায় দাফন করা হবে। ইবনে মাসুউদ হতে খতিবে বাগদাদ হাদীসটি রাওয়াত করেছেন, এবং তিনি বলেন হাদিসটি গরিব। ইবনে জাওযি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তার মাওদ্বুয়াতের মধ্যে বর্ণনা করেছেন। শায়খ মুহাদ্দিস মির্জা মুহাম্মদ আল হারিছি আল-বাধকশি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, নিশ্চয়ই এই হাদীসের শাওয়াহিদ আছে, যেমন ইবনে ওমর, ইবনে আব্বাস, আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো একটি আরেকটিকে শক্তিশালী করে। অতএব হাদীসটি হাসান।
#আ‘লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ফতোয়ায়ে আফ্রিকায় খতিবে বাগদাদের রেওয়াতটি উপরিউক্ত আহমদ সামহুদী ও কাজী সানাউল্লাহ পানিপথি তাফসীরে মাযহারীর মধ্যে আ’লা হযরত কৃত ফতোয়ায়ে আফ্রিকা বর্ণিত হাদিসকে হাসান হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।পাণ্ডিত্য সব জায়গায়…….?
এখানে আলাউদ্দীন জিহাদী যে সাধারণ নুতফার কথা বলেছেন সেটা তার নিজস্ব মনগড়া একটি কথা। আর আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলাইহি নুতফায়ে মুতাহহারা বলেছেন যেটি সাধারণ নুতফা নয়। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। কোথায় সাধারণ নুতফা আর কোথায় নুতফায়ে মুতাহহারা/ নুতফায়ে জাকিয়্যা অর্থাৎ পবিত্র ও নূরী নুতফা। আলাউদ্দীন জিহাদী যেভাবে নুতফা নুতফা করে নূরী নুতফাকে সাধারণ নুতফাতে রূপান্তরিত করে ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চায়, সেই উদ্দেশ্যে সফল হচ্ছে না। নিম্নে দলিল প্রদত্ত করা হলো:
بدانکے استقرار نطفہ زكیہ مصطویہ و ابداع ذرہ محمدیہ در صدف رحم آمینہ رضی اللہ تعالی عنہا در ایام حج برقول اصح در اوسط ایام تشریق شب جمعہ بود،
অর্থাৎ বিশুদ্ধ মতানুসারে হজের দিন সমূহের আইয়ামে তাশরীকের মধ্যবর্তী দিবসের জুমার রাত্রিতে হযরত আমেনা রাদিয়াল্লাহু আনহার শেকম মোবারকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নুতফায়ে জাকিয়্যা উপস্থিত হয়েছিল।
ইমাম কাস্তালানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর লিখিত মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া কিতাবের প্রথম খন্ডের ১৯৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন –
ولما حملت آمنه برسول الله صلى الله عليه وسلم ظهر لحمله عجائب، ووجد لايجاده غرائب، فذكروا انه لما استقرت نطفتة الزكية ودرته المحمدية في صدفة امنة القرشة نودي في الملكوت ومعالم الجبروت، ان عطروا جوامع القدس الاسنى، وبخروا جهات الشرف الأعلى، وافرشوا سجادات العبادات في صفوف الصفاء لصوفية الملائكة المقربين،اهل الصدق والوفاء،
হযরত আমিনা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা যখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’কে তার পবিত্র শেকম মোবারকে ধারণ করলেন, তখন অগণিত আশ্চর্য বিষয় প্রকাশ হলো। অতঃপর তারা উল্লেখ করেন: নিশ্চয়ই যখন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর পবিত্র নুতফা এবং মোহাম্মদী মুক্তা এর জিনুক মা আমিনার পবিত্র শেকম মোবারকে তাশরীফ আনলেন। তখন ঘোষণা করা হলো মালাকুত ও যাবারুতের মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ স্থানকে সুগন্ধময় কর। অনুরূপ সম্মানের নিদর্শন সমূহ প্রকাশ কর। ইবাদতের গালিচা বিছিয়ে দাও নৈকট্যবান ফেরেশতাদের থেকে নির্বাচিত ফেরেশতাদের কাতারে, এমন ফেরেশতা যারা সত্য স্বচ্ছতার গুনে গুণান্বিত।
এরপর আল্লামা কাস্তালানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এত সুন্দর করে নুতফায়ে জাকিয়্যার ব্যাখ্যাটা এভাবে দিলেন। নিম্নে তা প্রদত্ত করা হলো:
فقد انتقل النور المكنون الى بطن آمنة ذات العقل الباهر،والفخر المصون، قد خصها الله تعالى القريب المجيب، بهذا السيد المصطفى الحبيب لانها افضل قومها حسبا وانجب وازكاهم اخلاقا وفرعا وأطيب
অর্থাৎ আজ সুরক্ষিত নূরে মোহাম্মদী হযরত আমেনা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহার পবিত্র শেকম মোবারকের স্থানান্তরিত হয়েছে। যিনি বড় বুদ্ধিমতী এবং বংশ আর আভিজাত্যের কারণে প্রশংসনীয় এবং ত্রুটিমুক্ত। আল্লাহ পাক রাব্বুল ‘আলামিন তাকে মর্যাদা দান করেছেন, সবচেয়ে নৈকট্যবান এবং প্রার্থনা কবুলকারী হাবিবে সাইয়েদুল মোস্তফা আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। কারণ তিনি তার বংশের লোকদের মধ্যে সেরা। নিশ্চয়ই তিনি নৈতিকতায় তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ, মহৎ এবং পুত:পবিত্র।
#অতএব যারা নুতফায়ে জাকিয়্যাকে সাধারণ লুতফার অপবাদ দিয়ে সুন্নি অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, এই উদ্দেশ্য অবশ্যই নিন্দনীয় ও গর্হিত।
তদুপরি ’ত্বিনাত’ শব্দটিকে ইমাম যারকানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ‘বাহাউল আরদ্’, ‘কালবুল আরদ’ ও ‘নূরুল আরদ্’ শব্দগুলো দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। সুতরাং জিবরাঈল আলাইহিস সালামের সংগ্রহ করা বস্তুটি সরাসরি মাটি ছিল না। বরং মাটি হতে উৎপন্ন নূর ও তার সারনির্যাস । এই নূর ও সারনির্যাস’ই পরে বেহেস্তের তাছনীম তথা ঝর্ণার পানি দিয়ে মিশ্রিত করে এটাকে আরও অণু-পরমাণুতে পরিণত করা হয়েছিল।
এরপরও যদি আমার স্নেহের আলাউদ্দীন জিহাদীর বুঝে না আসে, তবে আমি পরামর্শ দিব সিরাজনগর দরবারে চলে আসো। পূর্বে যেভাবে বিভিন্ন বিষয়ে আমার পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতেন ঠিক তেমনিই স্নেহবোধ ও আন্তরিকতা বজায় রেখে এই বিষয় নিয়ে ডিসকাশন করব। অন্যথায় আমার দরবারের খলিফাদের সাথে একটা বৈঠকের ব্যবস্থা করা হোক অনলাইন বা অফলাইনে। আশা করি এই উদ্যোগ নিলে সুন্নি অঙ্গন বিভ্রান্তির বেড়াজালের ধোঁকা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন সবাইকে পরিপূর্ণ বুঝ দান করুন। আমিন!
শাহাব উদ্দিন আহমদ 













