মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে এক বৃদ্ধ পিতা নিহত হয়েছেন এবং এ সময় বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এসে গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের আরেক ছেলে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মাঝে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নর গাজীপুর আনসার ক্যাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি হলেন আকল মিয়া (৮০), পিতা মৃত আসকর মিয়া। গুরুতর আহত হয়েছেন তার বড় ছেলে শহিদুর মিয়া (৪৫)। তারা উভয়েই একই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আকল মিয়া ও তার ছোট ছেলে মশিক মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে এ বিরোধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে তীব্র বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠা মশিক মিয়া তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে নিজ পিতা আকল মিয়াকে আঘাত করেন। আঘাতটি ছিল অত্যন্ত গুরুতর, যা তার ডান পাঁজরের নিচে লাগে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
বাবাকে রক্ষা করতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে বড় ভাই শহিদুর মিয়া এগিয়ে এলে তাকেও ছাড় দেননি অভিযুক্ত মশিক মিয়া। তিনি শহিদুর মিয়াকেও নাভীর বাম পাশে ছুরিকাঘাত করেন, ফলে তিনিও গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই কাতরাতে থাকেন।
ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা আহত দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে গুরুতর আহত শহিদুর মিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মশিক মিয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সজিব উদ্দিন হেলাল 










