মৌলভীবাজার ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবুজে মোড়ানো শ্রীমঙ্গল: চা-বাগানের সৌন্দর্য, শ্রম আর সম্ভাবনার গল্প

ছবি: মুক্তবার্তা২৪.কম

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শ্রীমঙ্গলকে বলা হয় দেশের “চা-এর রাজধানী”। এখানকার শত শত একরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সবুজ চা-বাগান শুধু দেশের অর্থনীতিতেই অবদান রাখে না, বরং এ এক অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিশ্রণ।

বর্তমানে দেশের মোট চা উৎপাদনের বড় অংশই আসে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা এলাকা থেকে। শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি উঁচু-নিচু জমিগুলোতে বছরে প্রায় ১০ কোটি কেজির বেশি চা পাতা উৎপন্ন হয়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে এবং বিদেশেও রপ্তানি হয়।

স্থানীয় চা-বাগান কর্মচারী মানিক চাঁদ জানান, আমরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চা পাতার যত্ন করি, পানি দেই, কাটি, তোলে আনি এই সবুজই আমাদের জীবনের অংশ।”

তবে শুধুই উৎপাদন নয়, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান এখন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও দারুণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সাত রঙের চা, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, চা জাদুঘর এসব আকর্ষণ ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টি কাড়ে।

“চা বাগান ঘিরে হাজার হাজার পর্যটক আসেন প্রতি মাসে। স্থানীয় হোটেল-রিসোর্টগুলো এখন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।”

তবে চা-বাগানকেন্দ্রিক এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম। এখনও অনেক চা শ্রমিক দিনশেষে পর্যাপ্ত আয় পান না, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে চা শিল্প যেমন আরও সমৃদ্ধ হবে, তেমনি দেশে পর্যটনখাতেও আসবে নতুন গতি।

সবুজে মোড়ানো শ্রীমঙ্গল: চা-বাগানের সৌন্দর্য, শ্রম আর সম্ভাবনার গল্প

আপডেট সময় ০৫:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শ্রীমঙ্গলকে বলা হয় দেশের “চা-এর রাজধানী”। এখানকার শত শত একরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সবুজ চা-বাগান শুধু দেশের অর্থনীতিতেই অবদান রাখে না, বরং এ এক অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিশ্রণ।

বর্তমানে দেশের মোট চা উৎপাদনের বড় অংশই আসে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা এলাকা থেকে। শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি উঁচু-নিচু জমিগুলোতে বছরে প্রায় ১০ কোটি কেজির বেশি চা পাতা উৎপন্ন হয়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে এবং বিদেশেও রপ্তানি হয়।

স্থানীয় চা-বাগান কর্মচারী মানিক চাঁদ জানান, আমরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চা পাতার যত্ন করি, পানি দেই, কাটি, তোলে আনি এই সবুজই আমাদের জীবনের অংশ।”

তবে শুধুই উৎপাদন নয়, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান এখন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও দারুণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সাত রঙের চা, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, চা জাদুঘর এসব আকর্ষণ ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টি কাড়ে।

“চা বাগান ঘিরে হাজার হাজার পর্যটক আসেন প্রতি মাসে। স্থানীয় হোটেল-রিসোর্টগুলো এখন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।”

তবে চা-বাগানকেন্দ্রিক এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম। এখনও অনেক চা শ্রমিক দিনশেষে পর্যাপ্ত আয় পান না, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে চা শিল্প যেমন আরও সমৃদ্ধ হবে, তেমনি দেশে পর্যটনখাতেও আসবে নতুন গতি।