ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo শ্রীমঙ্গলে লেবু বাগানের কাঁটাতারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু Logo ১০ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস Logo মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: যুবকের মৃত্যুদণ্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা Logo ঈদ ও পর্যটকদের আগমন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন Logo তেহরানে পাকিস্তান সেনাপ্রধান-ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক Logo মৌলভীবাজারে বাসার ছাদ থেকে পড়ে গৃহকর্মী হালিমার মৃত্যু Logo ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১৩ শিশুর মৃত্যু Logo শ্রীমঙ্গলে পৃথক অভিযানে মাদক কারবারিসহ আটক ৮, উদ্ধার ২২৫ পিস ইয়াবা Logo বিখাউজ মিডিয়া হাউজ-১” — জ্বলন্ত জয়নালদের ছাই পড়ুক ওদের মুখে Logo শ্রীমঙ্গলে সিএনজি-মাইক্রোবাস শ্রমিকদের সংঘর্ষে আহত ২০, সাংবাদিকদের ওপর হামলা

শ্রীমঙ্গলের দুই মডেলকে নিয়ে ভাইরাল ভিডিও পোস্ট; অপপ্রচার অভিযোগে থানায় জিডি করলেন জারা ইসলাম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দুই মডেলকে ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পোস্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও অনলাইন মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন দাবি প্রকাশ পাওয়ায় ঘটনাটি আরও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

১৪ নভেম্বর Surma Edition নামের একটি ফেসবুক পেজে “দুই ক্রসজেন্ডার হানিট্রাপে শ্রীমঙ্গলের শতাধিক যুবক” শিরোনামে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে মডেল কেয়া সিনহা ও জারা আক্তারকে (জারা ইসলাম) কেন্দ্র করে নানা ধরনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে বলা হয়—দুজনেই নাকি হানি ট্র্যাপ চক্রে জড়িত এবং ঘনিষ্ঠতার ফাঁদে ফেলে ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন যুবকের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকেন। এমনকি লন্ডনপ্রবাসী রুবেল আহমদ নামের একজনকে শ্রীমঙ্গলের লেমন গার্ডেন রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে ঘটনার শিকার করার দাবি করা হয় ওই ভিডিওতে। তবে ওই ভিডিওতে করা অভিযোগের কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পরদিন ১৫ নভেম্বর মডেল জারা ইসলাম শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন—তার ও তার বন্ধু কেয়া সিনহার ছবি ও ভিডিও এডিট করে বিকৃতভাবে তৈরি করে সামাজিকমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ফোন নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জারা ইসলাম বলেন, “আমি শ্রীমঙ্গলে একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করি এবং বিভিন্ন জায়গায় মডেলিং করি। তৃতীয় লিঙ্গের একজন মানুষ হিসেবে অনেক কষ্ট করে সমাজে একটি অবস্থানে পৌঁছেছি। কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে। আমি এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।”

শ্রীমঙ্গল থানার এএসআই নাহিদুর রহমান জানান, “আমরা জিডিটি গ্রহণ করেছি। ভিডিওটি কোন আইডি থেকে প্রচার হয়েছে বা কারা জড়িত—তা যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তসাপেক্ষ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা থাকলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার উৎস অনুসন্ধান করছে।

Write Your Comment

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীমঙ্গলে লেবু বাগানের কাঁটাতারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

শ্রীমঙ্গলের দুই মডেলকে নিয়ে ভাইরাল ভিডিও পোস্ট; অপপ্রচার অভিযোগে থানায় জিডি করলেন জারা ইসলাম

আপডেট সময় ০৭:২৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দুই মডেলকে ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পোস্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও অনলাইন মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন দাবি প্রকাশ পাওয়ায় ঘটনাটি আরও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

১৪ নভেম্বর Surma Edition নামের একটি ফেসবুক পেজে “দুই ক্রসজেন্ডার হানিট্রাপে শ্রীমঙ্গলের শতাধিক যুবক” শিরোনামে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে মডেল কেয়া সিনহা ও জারা আক্তারকে (জারা ইসলাম) কেন্দ্র করে নানা ধরনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে বলা হয়—দুজনেই নাকি হানি ট্র্যাপ চক্রে জড়িত এবং ঘনিষ্ঠতার ফাঁদে ফেলে ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন যুবকের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকেন। এমনকি লন্ডনপ্রবাসী রুবেল আহমদ নামের একজনকে শ্রীমঙ্গলের লেমন গার্ডেন রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে ঘটনার শিকার করার দাবি করা হয় ওই ভিডিওতে। তবে ওই ভিডিওতে করা অভিযোগের কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পরদিন ১৫ নভেম্বর মডেল জারা ইসলাম শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন—তার ও তার বন্ধু কেয়া সিনহার ছবি ও ভিডিও এডিট করে বিকৃতভাবে তৈরি করে সামাজিকমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ফোন নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জারা ইসলাম বলেন, “আমি শ্রীমঙ্গলে একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করি এবং বিভিন্ন জায়গায় মডেলিং করি। তৃতীয় লিঙ্গের একজন মানুষ হিসেবে অনেক কষ্ট করে সমাজে একটি অবস্থানে পৌঁছেছি। কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে। আমি এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।”

শ্রীমঙ্গল থানার এএসআই নাহিদুর রহমান জানান, “আমরা জিডিটি গ্রহণ করেছি। ভিডিওটি কোন আইডি থেকে প্রচার হয়েছে বা কারা জড়িত—তা যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তসাপেক্ষ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা থাকলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার উৎস অনুসন্ধান করছে।