সিলেট ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ জন গ্রেপ্তার Logo চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম Logo সন্ধ্যার মধ্যে ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস Logo সিলেটে এক বাসা থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার Logo ২২৬ মাদরাসায় একজনও পাস করেনি Logo সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন আটক Logo মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত Logo ‘৩৬ জুলাই’-এর দুই বছর: রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের স্মরণে আজ জাতির শ্রদ্ধাঞ্জলি Logo শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি, বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে অবস্থান Logo আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের এমডি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বিতর্কে সাইদ একরাম উল্লা
নিখোঁজের ১৮ দিন পর বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার লাশ

মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, স্বামী গ্রেপ্তার

রাজনগরে স্ত্রী হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় এক গৃহবধূকে হত্যার পর নিজ বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার ১৮ দিন পর সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে ওই নারীর মরদেহ প্রায় ১০ ফুট মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

নিহত জায়েদা বেগম রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নানের মেয়ে। গ্রেপ্তার হওয়া তার স্বামী আলমগীর হোসেন করিমপুর চা বাগান এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুলাই মেয়ের নিখোঁজের বিষয়ে রাজনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জায়েদার বাবা আব্দুল হান্নান। এর সূত্র ধরে তদন্তে নামেন রাজনগর থানার এসআই অরূপ সরকার। গত ৫ জুলাই বিকেলে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, তার স্ত্রী ১৯ জুন সৌদি আরবে চলে গেছেন। তবে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাকে থানায় এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, গত ১৭ জুন রাত অনুমান ৯টার দিকে সহযোগীসহ মিলে শ্বাসরোধে স্ত্রীকে হত্যা করেন এবং পরদিন নিজ বাড়ির উঠানে গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখেন।

জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়ির উঠানে অভিযান চালায় পুলিশ। প্রায় চার ঘণ্টা খোঁড়াখুঁড়ির পর সিসি ঢালাই ভেঙে বালুর বস্তাচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়ের এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদার। মরদেহ উদ্ধারের সময় স্থানীয় উৎসুক জনতা ঘাতকের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেয়।

সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জিডির সূত্র ধরে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে তিনি স্ত্রীর বিদেশযাত্রার কথা বললেও সন্দেহ হওয়ায় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং মরদেহ পুঁতে রাখার স্থান দেখিয়ে দেন। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ওই স্থান খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে দাম্পত্য কলহ থেকে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Write Your Comment

শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

নিখোঁজের ১৮ দিন পর বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার লাশ

মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৮:২৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় এক গৃহবধূকে হত্যার পর নিজ বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার ১৮ দিন পর সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে ওই নারীর মরদেহ প্রায় ১০ ফুট মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

নিহত জায়েদা বেগম রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নানের মেয়ে। গ্রেপ্তার হওয়া তার স্বামী আলমগীর হোসেন করিমপুর চা বাগান এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুলাই মেয়ের নিখোঁজের বিষয়ে রাজনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জায়েদার বাবা আব্দুল হান্নান। এর সূত্র ধরে তদন্তে নামেন রাজনগর থানার এসআই অরূপ সরকার। গত ৫ জুলাই বিকেলে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, তার স্ত্রী ১৯ জুন সৌদি আরবে চলে গেছেন। তবে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাকে থানায় এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, গত ১৭ জুন রাত অনুমান ৯টার দিকে সহযোগীসহ মিলে শ্বাসরোধে স্ত্রীকে হত্যা করেন এবং পরদিন নিজ বাড়ির উঠানে গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখেন।

জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়ির উঠানে অভিযান চালায় পুলিশ। প্রায় চার ঘণ্টা খোঁড়াখুঁড়ির পর সিসি ঢালাই ভেঙে বালুর বস্তাচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়ের এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদার। মরদেহ উদ্ধারের সময় স্থানীয় উৎসুক জনতা ঘাতকের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেয়।

সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জিডির সূত্র ধরে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে তিনি স্ত্রীর বিদেশযাত্রার কথা বললেও সন্দেহ হওয়ায় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং মরদেহ পুঁতে রাখার স্থান দেখিয়ে দেন। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ওই স্থান খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে দাম্পত্য কলহ থেকে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।