মৌলভীবাজার ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
Logo ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের পদত্যাগ Logo সন্ধ্যার মধ্যে সিলেটে ৮০ কি.মি. বেগে ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা Logo শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান : মির্জা ফখরুল Logo শ্রীমঙ্গলে টমটম পার্কিং নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩৯, সেনাবাহিনীর হাতে আটক ১৪ Logo মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০০২, আহত ২,৩৭৬ Logo ভূমিকম্পে মিয়ানমারে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে: ইউএসজিএস Logo এম.ডি.এফ ওয়ালর্ড ওয়াইড এর আয়োজনে ঢাকা ও মৌলভীবাজারে পথচারীদের মধ্যে ইফতার প্যাক বিতরণ Logo মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্প: বহু প্রাণহানি, ঐতিহাসিক আভা সেতু ধসে পড়েছে Logo ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ Logo শ্রীমঙ্গলে এক ডিম বিক্রি হলো ২২ হাজার টাকায়

রাজনগর উপজেলা বিএনপির দীর্ঘ দিনের বিরোধের নিরসন করলেন ফয়জুল করিম ময়ূন

  • এম ইদ্রিস আলী
  • আপডেট সময় ০৬:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৪
  • 150

দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসা রাজনগর উপজেলা বিএনপির দ্বিধাবিভক্তির নিরসন করলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন।

জানা গেছে, এ উপজেলায় জেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জিতু মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. আব্বাস আলী মাস্টার। এ কমিটি চলমান থাকলেও দলের একটি বৃহৎ অংশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়। এ অংশের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেকিম সুন্দর বক্স। কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, দুটি অংশের নেতাদের মধ্যে কেউ কারও সাথে কথাবার্তা বলতেন না। এমনকি মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত ছিল না। ফলে দলীয় কোন্দলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে রাজনগর উপজেলা বিএনপি।

এমন অবস্থা চলে আসায় সর্বশেষ ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির নতুন কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন তাঁর বাসভবনে বিবদমান দুটি পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাংগঠনিক দিকনির্দেশনার ওপর শ্রদ্ধাশীল থেকে তা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য দলীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে দলীয় নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, “আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন। আমি এ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জেলা কৃষকদল, মহিলাদলের কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ করেছি। এরই মধ্যে রাজনগর উপজেলা সহ জেলার অন্যান্য উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের দিয়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে দিয়েছি। কর্মী সভা আহ্বানের জন্য সভার তারিখ ও সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দকে অতীতের দুঃখ-বেদনা, ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নব উদ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, “অতীতে যারা দলের জন্য জীবন বাজি রেখে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, দলের জন্য জেলে গেছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন—তাদের মাধ্যমেই দলের প্রতিটি স্তরের কমিটি গঠন করা হবে। ত্যাগী ও দুর্দিনের রাজপথের নেতৃবৃন্দদেরই কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে। এতে কোনো স্বজনপ্রীতির আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “অতীত অতীতই। অতীতকে টানাটানি না করে সকল ভেদাভেদ ভুলে তারেক রহমানের ডাকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে দলকে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী করার অনুরোধ জানাই।”

এ আহ্বানে উভয়পক্ষের নেতৃবৃন্দ খুশি হন এবং সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা আব্দুল কাদির মিয়া, সাবেক মেম্বার মোস্তফা মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আশরাফুজ্জামান খান নাহাজ, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেকিম সুন্দর বক্স, এনামুল হোসেন চৌধুরী, আব্দুল মুত্তাকিন মুক্তা, জগলু তালুকদার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জিতু মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মাস্টার, নুরুল ইসলাম সেলুন এবং সাবেক চেয়ারম্যান কবির মিয়া।

ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের পদত্যাগ

x

রাজনগর উপজেলা বিএনপির দীর্ঘ দিনের বিরোধের নিরসন করলেন ফয়জুল করিম ময়ূন

আপডেট সময় ০৬:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৪

দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসা রাজনগর উপজেলা বিএনপির দ্বিধাবিভক্তির নিরসন করলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন।

জানা গেছে, এ উপজেলায় জেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জিতু মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. আব্বাস আলী মাস্টার। এ কমিটি চলমান থাকলেও দলের একটি বৃহৎ অংশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়। এ অংশের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেকিম সুন্দর বক্স। কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, দুটি অংশের নেতাদের মধ্যে কেউ কারও সাথে কথাবার্তা বলতেন না। এমনকি মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত ছিল না। ফলে দলীয় কোন্দলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে রাজনগর উপজেলা বিএনপি।

এমন অবস্থা চলে আসায় সর্বশেষ ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির নতুন কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন তাঁর বাসভবনে বিবদমান দুটি পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাংগঠনিক দিকনির্দেশনার ওপর শ্রদ্ধাশীল থেকে তা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য দলীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে দলীয় নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, “আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন। আমি এ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জেলা কৃষকদল, মহিলাদলের কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ করেছি। এরই মধ্যে রাজনগর উপজেলা সহ জেলার অন্যান্য উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের দিয়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে দিয়েছি। কর্মী সভা আহ্বানের জন্য সভার তারিখ ও সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দকে অতীতের দুঃখ-বেদনা, ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নব উদ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, “অতীতে যারা দলের জন্য জীবন বাজি রেখে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, দলের জন্য জেলে গেছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন—তাদের মাধ্যমেই দলের প্রতিটি স্তরের কমিটি গঠন করা হবে। ত্যাগী ও দুর্দিনের রাজপথের নেতৃবৃন্দদেরই কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে। এতে কোনো স্বজনপ্রীতির আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “অতীত অতীতই। অতীতকে টানাটানি না করে সকল ভেদাভেদ ভুলে তারেক রহমানের ডাকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে দলকে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী করার অনুরোধ জানাই।”

এ আহ্বানে উভয়পক্ষের নেতৃবৃন্দ খুশি হন এবং সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা আব্দুল কাদির মিয়া, সাবেক মেম্বার মোস্তফা মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আশরাফুজ্জামান খান নাহাজ, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেকিম সুন্দর বক্স, এনামুল হোসেন চৌধুরী, আব্দুল মুত্তাকিন মুক্তা, জগলু তালুকদার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জিতু মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মাস্টার, নুরুল ইসলাম সেলুন এবং সাবেক চেয়ারম্যান কবির মিয়া।