সিলেট ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বীনি শিক্ষার উদ্দেশ্যে মিসরের পথে নাজিব, বিদায়বেলায় অশ্রুসিক্ত বাবা

দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিসরের পথে যাত্রা করেছেন শেখ নাজিব আহমদ। মিসরের ঐতিহ্যবাহী আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবেন তিনি। ছেলের নতুন এই যাত্রায় পরিবারের মধ্যে যেমন আনন্দ ও গর্ব, তেমনি রয়েছে বিচ্ছেদের বেদনাও। নাজিবকে বিদায় দিয়ে ফেরার পথে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেখ নাজিব আহমদ একসময় প্রায় ৮০ কেজি ওজনের সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের দিকে হঠাৎ তাঁর খাবারের প্রতি অনীহা দেখা দেয়। এরপর ধীরে ধীরে তাঁর ওজন কমতে থাকে। বর্তমানে তাঁর ওজন প্রায় ৫৫ কেজি।

ছেলের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন উদ্বিগ্ন ছিলেন বাবা মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ। তিনি জানান, ছেলের খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতেন। অফিসের ব্যস্ততার মধ্যেও ছেলের খাওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে তাঁর চিন্তা থাকত।

নাজিবের মিসরযাত্রার আগে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। তাঁর বড় বোন যুক্তরাজ্য থেকে ভাইকে বিদায় জানাতে দেশে আসেন। ১৫ বছর বয়সী ছোট বোনও ভাইয়ের বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও ছিল বিচ্ছেদের কষ্ট।

ছেলেকে বিমানে তুলে দেওয়ার পর ফেরার পথে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বাবা শেখ শিব্বির আহমদ। তিনি জানান, ফেরার পথে ‘হোটেল হেভেন হাইওয়ে ইন’-এ একা খাবার খেতে বসেছিলেন। এ সময় ছেলের কথা মনে পড়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ বলেন, মিসরে যাওয়ার আগে ছেলেকে একটু বেশি খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে নাজিব স্বভাব অনুযায়ী অল্প কিছু খেয়েই খাবার রেখে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে ছেলের খাবার নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, বিদায়ের মুহূর্তে সেই স্মৃতিগুলোই তাঁর মনে পড়ে।

তবে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ। তিনি মনে করেন, নতুন পরিবেশে নাজিব ধীরে ধীরে নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে শিখবেন। আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও হবে তাঁর।

ছেলের নিরাপদ যাত্রা, সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষাজীবনের সফলতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাজিবের দাদা উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা শেখ আব্দুল কারীম সিরাজনগরী। নাতির দ্বীনি শিক্ষার এই নতুন অধ্যায়ের জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

পরিবারের প্রত্যাশা, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ শেষে জ্ঞান ও আদর্শে সমৃদ্ধ হয়ে নাজিব একদিন দেশে ফিরে আসবেন এবং দ্বীনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করবেন।

Write Your Comment

দ্বীনি শিক্ষার উদ্দেশ্যে মিসরের পথে নাজিব, বিদায়বেলায় অশ্রুসিক্ত বাবা

আপডেট সময় ১২:১৯:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিসরের পথে যাত্রা করেছেন শেখ নাজিব আহমদ। মিসরের ঐতিহ্যবাহী আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবেন তিনি। ছেলের নতুন এই যাত্রায় পরিবারের মধ্যে যেমন আনন্দ ও গর্ব, তেমনি রয়েছে বিচ্ছেদের বেদনাও। নাজিবকে বিদায় দিয়ে ফেরার পথে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেখ নাজিব আহমদ একসময় প্রায় ৮০ কেজি ওজনের সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের দিকে হঠাৎ তাঁর খাবারের প্রতি অনীহা দেখা দেয়। এরপর ধীরে ধীরে তাঁর ওজন কমতে থাকে। বর্তমানে তাঁর ওজন প্রায় ৫৫ কেজি।

ছেলের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন উদ্বিগ্ন ছিলেন বাবা মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ। তিনি জানান, ছেলের খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখতেন। অফিসের ব্যস্ততার মধ্যেও ছেলের খাওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে তাঁর চিন্তা থাকত।

নাজিবের মিসরযাত্রার আগে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। তাঁর বড় বোন যুক্তরাজ্য থেকে ভাইকে বিদায় জানাতে দেশে আসেন। ১৫ বছর বয়সী ছোট বোনও ভাইয়ের বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও ছিল বিচ্ছেদের কষ্ট।

ছেলেকে বিমানে তুলে দেওয়ার পর ফেরার পথে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বাবা শেখ শিব্বির আহমদ। তিনি জানান, ফেরার পথে ‘হোটেল হেভেন হাইওয়ে ইন’-এ একা খাবার খেতে বসেছিলেন। এ সময় ছেলের কথা মনে পড়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ বলেন, মিসরে যাওয়ার আগে ছেলেকে একটু বেশি খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে নাজিব স্বভাব অনুযায়ী অল্প কিছু খেয়েই খাবার রেখে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে ছেলের খাবার নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, বিদায়ের মুহূর্তে সেই স্মৃতিগুলোই তাঁর মনে পড়ে।

তবে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ। তিনি মনে করেন, নতুন পরিবেশে নাজিব ধীরে ধীরে নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে শিখবেন। আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও হবে তাঁর।

ছেলের নিরাপদ যাত্রা, সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষাজীবনের সফলতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাজিবের দাদা উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা শেখ আব্দুল কারীম সিরাজনগরী। নাতির দ্বীনি শিক্ষার এই নতুন অধ্যায়ের জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

পরিবারের প্রত্যাশা, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ শেষে জ্ঞান ও আদর্শে সমৃদ্ধ হয়ে নাজিব একদিন দেশে ফিরে আসবেন এবং দ্বীনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করবেন।