মৌলভীবাজার শহরের শমশেরনগর সড়ক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও এফ রহমান ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী শাহ মো. ফয়জুর রহমান রুবেলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজার।
শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শহরের চৌমুহনা চত্বরে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও গণমিছিল করেন। সকাল ৯টা থেকেই ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ চৌমুহনায় জড়ো হতে থাকেন। সবার হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড—‘রুবেল হত্যার বিচার চাই’, ‘আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করো’।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “মৌলভীবাজারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রশাসনের চরম অবহেলায় অপরাধ দিনদিন বাড়ছে। একজন নিরীহ ব্যবসায়ীর রক্তের দাবি উপেক্ষা করা যায় না। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রুবেল হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ ডাকা হবে।”
শমশেরনগর সড়ক ব্যবসায়ী সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন হলেও এতে জেলা বিএনপি, মৌলভীবাজার বিজনেস ফোরাম, কুলাউড়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, সিএনজি অটোরিকশা চালক সমিতি, রহিম-মদিনা সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়। এছাড়া বিকেলে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন মৌলভীবাজার জেলা শাখাসহ নানা সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে শাহ মো. ফয়জুর রহমান রুবেলের প্রথম জানাজা শনিবার যোহরের নামাজের পর মৌলভীবাজারের বর্ষিজোড়া মাইজপাড়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ নাসের রহমান, জেলা বিএনপির আহবায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজানসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় আসরের নামাজের পর কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার শহরের শমশেরনগর রোডের সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় দুর্বৃত্তরা এফ রহমান ট্রেডিংয়ে প্রবেশ করে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রুবেলকে গুরুতর আহত করে। তার আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।