মৌলভীবাজার ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
Logo পবিত্র শবে বরাত আজ Logo তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালাননি, ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে: এম নাসের রহমান Logo কুলাউড়ায় ধানের শীষের প্রার্থী শওকতুল ইসলামের নির্বাচনী কার্যক্রমে সমন্বয় সভা Logo ধানের শীষে ভোট দিলে উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে: নাসের রহমান Logo জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ই-রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ছে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্তআসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে করদাতাদের সুবিধার্থে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর ফলে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল করা যাবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আয়কর আইন অনুযায়ী প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় নির্ধারিত থাকে। তবে চলতি অর্থবছরে ই-রিটার্নে প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় এর আগে দুই দফায় এক মাস করে সময় বাড়ানো হয়। এবার তৃতীয় দফায় সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এনবিআর সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণভোট ও নির্বাচনী প্রচারণার কারণে অনেক করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি। এ প্রেক্ষাপটে করদাতাদের স্বস্তি দিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরও তিন দফা সময় বাড়িয়ে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। এনবিআরের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিয়েছেন ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৮ জন। অর্থাৎ প্রায় ৯০ লাখ করদাতা এখনো রিটার্ন দাখিল করেননি। গত বছর মোট রিটার্ন জমা পড়েছিল ৪৫ লাখ। সময় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহমান খান বলেন, “রিটার্ন দাখিলের শেষ দিকে যদি দেখা যায় যে, যতজন করদাতা নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো রিটার্ন জমা দেননি, তাহলে আমরা সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করব। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।” Logo নির্বাচন উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি Logo দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার ৫৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ Logo শায়েস্তাগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৮৮ বস্তা ভারতীয় জিরা উদ্ধার, আটক ১ Logo দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড শ্রীমঙ্গলে Logo দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে

রাজনগরে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত, আহত অর্ধশতাধিক

নিহত আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলামছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের রাজনগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ওরফে ছানা (৫০) নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পাঁচগাঁও ইউনিয়নের মধুর বাজারে সংঘর্ষটি শুরু হয় এবং দুপুর ২টা পর্যন্ত চলতে থাকে।

সিরাজুল ইসলাম পাঁচগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর মধুর বাজারে মহেশ দাসের দোকান লুট করা হয়। এ নিয়ে বাজারে উত্তেজনা ছিল। শুক্রবার সকালে লুটের অভিযোগে রক্তা গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কেওলা গ্রামের ছুনু মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এর পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কেওলা, সারমপুর এবং রক্তা গ্রামের লোকজনের মধ্যে।

রক্তা গ্রামের বিএনপি নেতা পিন্টু সুলতানের নেতৃত্বে এক পক্ষ এবং কেওলা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান মিয়া ও চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে অপর পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র ছাড়াও আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি বিনিময় হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ও পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে তাঁর মৃত্যু ঘটে। আহত ব্যক্তিদের রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও সিলেটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে মৌলভীবাজার ও রাজনগরের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আহমেদ ফয়সল জামান জানিয়েছেন, হাসপাতালে ৫২ জন আহত চিকিৎসা নিচ্ছেন, এর মধ্যে ৭ জন ভর্তি আছেন। চেয়ারম্যান গুলিবিদ্ধ ছিলেন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

নিহত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের চাচাতো ভাই দেওয়ান মিয়া অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিপক্ষ তাঁর ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং তাঁদের সব দোকান লুটপাট করেছে। অপরদিকে, পিন্টু সুলতান দাবি করেছেন, তাঁর আইসক্রিম কারখানায় কাজ করার সময় সারমপুর ও কেওলার লোকজন মধুর বাজারে হামলা চালিয়েছে, যা তাঁরা প্রতিহত করেছেন।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুপ্রভাত চাকমা জানিয়েছেন, পূর্বের দ্বন্দ্বের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি এবং গোলাগুলি হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী অবস্থান করছে।

পবিত্র শবে বরাত আজ

রাজনগরে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত, আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট সময় ০৮:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অগাস্ট ২০২৪

মৌলভীবাজারের রাজনগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ওরফে ছানা (৫০) নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পাঁচগাঁও ইউনিয়নের মধুর বাজারে সংঘর্ষটি শুরু হয় এবং দুপুর ২টা পর্যন্ত চলতে থাকে।

সিরাজুল ইসলাম পাঁচগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর মধুর বাজারে মহেশ দাসের দোকান লুট করা হয়। এ নিয়ে বাজারে উত্তেজনা ছিল। শুক্রবার সকালে লুটের অভিযোগে রক্তা গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কেওলা গ্রামের ছুনু মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এর পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কেওলা, সারমপুর এবং রক্তা গ্রামের লোকজনের মধ্যে।

রক্তা গ্রামের বিএনপি নেতা পিন্টু সুলতানের নেতৃত্বে এক পক্ষ এবং কেওলা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান মিয়া ও চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে অপর পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র ছাড়াও আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি বিনিময় হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ও পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে তাঁর মৃত্যু ঘটে। আহত ব্যক্তিদের রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও সিলেটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে মৌলভীবাজার ও রাজনগরের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আহমেদ ফয়সল জামান জানিয়েছেন, হাসপাতালে ৫২ জন আহত চিকিৎসা নিচ্ছেন, এর মধ্যে ৭ জন ভর্তি আছেন। চেয়ারম্যান গুলিবিদ্ধ ছিলেন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

নিহত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের চাচাতো ভাই দেওয়ান মিয়া অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিপক্ষ তাঁর ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং তাঁদের সব দোকান লুটপাট করেছে। অপরদিকে, পিন্টু সুলতান দাবি করেছেন, তাঁর আইসক্রিম কারখানায় কাজ করার সময় সারমপুর ও কেওলার লোকজন মধুর বাজারে হামলা চালিয়েছে, যা তাঁরা প্রতিহত করেছেন।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুপ্রভাত চাকমা জানিয়েছেন, পূর্বের দ্বন্দ্বের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি এবং গোলাগুলি হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী অবস্থান করছে।