ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo শ্রীমঙ্গলে মসজিদের ভেতরে ইমামকে নৃশংস হত্যা Logo শিশু জুনায়েদ হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আলামিন গ্রেফতার, মোট ৫ জন আটক Logo শ্রীমঙ্গল শাপলাবাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী রুয়েল মিয়াসহ ৫ জন গ্রেফতার Logo শ্রীমঙ্গলে ছেলের ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধ পিতা নিহত, বড় ভাই গুরুতর আহত Logo শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির নেতার মামলা: নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রেসক্লাবের Logo দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি, ইরানের কৌশলগত বিজয়! Logo হবিগঞ্জে ট্রাকচাপায় শিশু নিহত Logo রাত ৮টার মধ্যে দেশের সকল দোকান-শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্ত Logo সিলেটসহ ৯ জেলায় কালবৈশাখীর শঙ্কা Logo সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ

শ্রীমঙ্গলে মসজিদের ভেতরে ইমামকে নৃশংস হত্যা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হাফিজ উল্লাহ (৮০) ওই সময় নামাজে ইমামতি করছিলেন।

রোববার (৩ মে) ভোরে উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল ফোরকানিয়া জামে মসজিদের বারান্দায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত হাফিজ উল্লাহ পশ্চিম লইয়ারকুল গ্রামের মৃত মসফ উল্লার ছেলে। অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন (৩২) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং শওকত আলীর ছেলে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের স্থায়ী ইমাম ছুটিতে থাকায় সেদিন ফজরের নামাজে ইমামতি করছিলেন হাফিজ উল্লাহ। নামাজ চলাকালে হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে অভিযুক্ত জসিম একটি কলম দিয়ে তার চোখ, মুখ ও মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

পরে তাকে মারধর করে টেনে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে যাওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জসিমকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার এসআই সজিব চৌধুরী জানান, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নেওয়া সংক্রান্ত পূর্বের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে হামলাকারীকে আটক করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, নামাজরত অবস্থায় মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন নৃশংস ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ

Write Your Comment

শ্রীমঙ্গলে মসজিদের ভেতরে ইমামকে নৃশংস হত্যা

শ্রীমঙ্গলে মসজিদের ভেতরে ইমামকে নৃশংস হত্যা

আপডেট সময় ০৩:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হাফিজ উল্লাহ (৮০) ওই সময় নামাজে ইমামতি করছিলেন।

রোববার (৩ মে) ভোরে উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল ফোরকানিয়া জামে মসজিদের বারান্দায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত হাফিজ উল্লাহ পশ্চিম লইয়ারকুল গ্রামের মৃত মসফ উল্লার ছেলে। অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন (৩২) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং শওকত আলীর ছেলে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের স্থায়ী ইমাম ছুটিতে থাকায় সেদিন ফজরের নামাজে ইমামতি করছিলেন হাফিজ উল্লাহ। নামাজ চলাকালে হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে অভিযুক্ত জসিম একটি কলম দিয়ে তার চোখ, মুখ ও মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

পরে তাকে মারধর করে টেনে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে যাওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জসিমকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার এসআই সজিব চৌধুরী জানান, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নেওয়া সংক্রান্ত পূর্বের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে হামলাকারীকে আটক করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, নামাজরত অবস্থায় মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন নৃশংস ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।