সিলেট ০৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি, বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে অবস্থান Logo আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের এমডি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বিতর্কে সাইদ একরাম উল্লা Logo মৌলভীবাজারে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র নতুন কমিটি: আহ্বায়ক শাহ জামাল, সদস্য সচিব ইমরান, সদস্য ২৩ Logo শ্রীমঙ্গলে বৃক্ষরোপণ ও উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচিতে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী Logo ট্যাক্স রিটার্ন প্রমাণপত্রের অজুহাতে জিম্মি সেবাগ্রহীতা, শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ Logo শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক পরিচয়ে ভূমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ, বোনের সংবাদ সম্মেলন Logo মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, স্বামী গ্রেপ্তার Logo ইসরাইলি গুলিতে প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক Logo হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর: বাংলাদেশে যাতে আবার সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া না দেয়হোলি আর্টিজান Logo ঠাকুরগাঁও থেকে একসঙ্গে নিখোঁজ চার ছাত্রী সিলেটে উদ্ধারনিখোঁজ ছাত্রী

শ্রীমঙ্গলে মসজিদের ভেতরে ইমামকে নৃশংস হত্যা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হাফিজ উল্লাহ (৮০) ওই সময় নামাজে ইমামতি করছিলেন।

রোববার (৩ মে) ভোরে উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল ফোরকানিয়া জামে মসজিদের বারান্দায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত হাফিজ উল্লাহ পশ্চিম লইয়ারকুল গ্রামের মৃত মসফ উল্লার ছেলে। অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন (৩২) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং শওকত আলীর ছেলে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের স্থায়ী ইমাম ছুটিতে থাকায় সেদিন ফজরের নামাজে ইমামতি করছিলেন হাফিজ উল্লাহ। নামাজ চলাকালে হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে অভিযুক্ত জসিম একটি কলম দিয়ে তার চোখ, মুখ ও মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

পরে তাকে মারধর করে টেনে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে যাওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জসিমকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার এসআই সজিব চৌধুরী জানান, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নেওয়া সংক্রান্ত পূর্বের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে হামলাকারীকে আটক করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, নামাজরত অবস্থায় মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন নৃশংস ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি, বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে অবস্থান

শ্রীমঙ্গলে মসজিদের ভেতরে ইমামকে নৃশংস হত্যা

আপডেট সময় ০৩:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হাফিজ উল্লাহ (৮০) ওই সময় নামাজে ইমামতি করছিলেন।

রোববার (৩ মে) ভোরে উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল ফোরকানিয়া জামে মসজিদের বারান্দায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত হাফিজ উল্লাহ পশ্চিম লইয়ারকুল গ্রামের মৃত মসফ উল্লার ছেলে। অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন (৩২) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং শওকত আলীর ছেলে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের স্থায়ী ইমাম ছুটিতে থাকায় সেদিন ফজরের নামাজে ইমামতি করছিলেন হাফিজ উল্লাহ। নামাজ চলাকালে হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে অভিযুক্ত জসিম একটি কলম দিয়ে তার চোখ, মুখ ও মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

পরে তাকে মারধর করে টেনে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে যাওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জসিমকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার এসআই সজিব চৌধুরী জানান, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নেওয়া সংক্রান্ত পূর্বের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে হামলাকারীকে আটক করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, নামাজরত অবস্থায় মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন নৃশংস ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।