মৌলভীবাজার ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে যুবতী হত্যার ঘটনায় প্রেমিক গ্রেফতার

  • এম এ রকিব
  • আপডেট সময় ০৯:৪৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 613

শ্রীমঙ্গলে প্রেমিকের হাতে যুবতী হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার রনজিত সাঁওতাল

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক যুবতী হত্যার ঘটনায় রনজিত সাঁওতাল (২১) নামের তার প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। তিনি উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের উদনাছড়া চা বাগানের ৮নং বস্তির শংকর সাঁওতালের পুত্র এবং একই চা বাগানে ইলেকট্রিশিয়ান। বুধবার দুপুরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত রনজিতকে গ্রেফতারের পর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ মোবারক হোসেন খান জানান।

হত্যার শিকার বিশ^মনি দাস (২৫) উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের উদনাছড়া চা বাগানের ৮নং বস্তির মৃত লক্ষীন্দর দাসের মেয়ে। তিনি নিরালা পান পুঞ্জিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ভিকটিমের ভাই সুকমার দাস (২২)।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আরও জানান, গত মঙ্গলবার ভোররাতে রনজিত সাঁওতালকে তার নিজ এলাকার একটি বিয়ে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে গত ৭ ডিসেম্বর বিশ^মনি দাসের মৃতদেহ উদনাছড়া চা বাগানের ১১নং সেকশন থেকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, হত্যার শিকার বিশ^মনি দাসের সঙ্গে রনজিত সাঁওতালের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেম থেকে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যান তারা। এক পর্যায়ে বিশ^মনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। রনজিত পেটের সন্তান গর্ভপাত ঘটানোর জন্য বিশ^মনিকে ওষুধ কিনে দেন। এতে কাজ না হওয়ায় বিশ^মনি আবারও বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং বিয়ে না করলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন গত ৫ ডিসেম্বর সকালে সহকর্মীদের সঙ্গে বিশ^মনি দাস কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরালা পান পুঞ্জিতে যান। ওই দিন বিকেলে বাড়ি ফেরার সময় উদনাছড়া চা বাগানের ১১নং সেকশনের ভাঙা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে সহকর্মীদের বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে তাদের চলে যেতে বলেন বিশ^মনি। সহকর্মীরা চলে যাওয়ার পর তিনি প্রেমিক রনজিত সাঁওতালের সঙ্গে দেখা করেন এবং আবারও বিয়ের প্রস্তাব দেন। রনজিত বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করলে সঙ্গে থাকা বিষ পান করেন বিশ^মনি।

বিষপানের পর বিশ^মনির মুখে ফেনা আসে এবং তিনি জোরে জোরে শব্দ করতে থাকেন। এসময় রনজিত তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বাগানের ভেতরে টেনে নিয়ে যান এবং একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

ঘটনার পর বিশ^মনিকে খুঁজে না পেয়ে বাগানের বিভিন্ন সেকশনে খুঁজতে থাকেন তার পরিবার। এক পর্যায়ে গত ৭ ডিসেম্বর তার লাশ উদনাছড়া চা বাগানের ১১নং সেকশনের ভেতরে একটি গাছের নিচে ওড়না দিয়ে গলায় বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

তিনি জানান, রনজিত সাঁওতালকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুরো বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বিশ^মনির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে থানা পুলিশকে জানান।

শ্রীমঙ্গলে যুবতী হত্যার ঘটনায় প্রেমিক গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৯:৪৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক যুবতী হত্যার ঘটনায় রনজিত সাঁওতাল (২১) নামের তার প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। তিনি উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের উদনাছড়া চা বাগানের ৮নং বস্তির শংকর সাঁওতালের পুত্র এবং একই চা বাগানে ইলেকট্রিশিয়ান। বুধবার দুপুরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত রনজিতকে গ্রেফতারের পর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ মোবারক হোসেন খান জানান।

হত্যার শিকার বিশ^মনি দাস (২৫) উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের উদনাছড়া চা বাগানের ৮নং বস্তির মৃত লক্ষীন্দর দাসের মেয়ে। তিনি নিরালা পান পুঞ্জিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ভিকটিমের ভাই সুকমার দাস (২২)।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আরও জানান, গত মঙ্গলবার ভোররাতে রনজিত সাঁওতালকে তার নিজ এলাকার একটি বিয়ে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে গত ৭ ডিসেম্বর বিশ^মনি দাসের মৃতদেহ উদনাছড়া চা বাগানের ১১নং সেকশন থেকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, হত্যার শিকার বিশ^মনি দাসের সঙ্গে রনজিত সাঁওতালের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেম থেকে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যান তারা। এক পর্যায়ে বিশ^মনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। রনজিত পেটের সন্তান গর্ভপাত ঘটানোর জন্য বিশ^মনিকে ওষুধ কিনে দেন। এতে কাজ না হওয়ায় বিশ^মনি আবারও বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং বিয়ে না করলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন গত ৫ ডিসেম্বর সকালে সহকর্মীদের সঙ্গে বিশ^মনি দাস কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরালা পান পুঞ্জিতে যান। ওই দিন বিকেলে বাড়ি ফেরার সময় উদনাছড়া চা বাগানের ১১নং সেকশনের ভাঙা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে সহকর্মীদের বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে তাদের চলে যেতে বলেন বিশ^মনি। সহকর্মীরা চলে যাওয়ার পর তিনি প্রেমিক রনজিত সাঁওতালের সঙ্গে দেখা করেন এবং আবারও বিয়ের প্রস্তাব দেন। রনজিত বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করলে সঙ্গে থাকা বিষ পান করেন বিশ^মনি।

বিষপানের পর বিশ^মনির মুখে ফেনা আসে এবং তিনি জোরে জোরে শব্দ করতে থাকেন। এসময় রনজিত তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বাগানের ভেতরে টেনে নিয়ে যান এবং একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

ঘটনার পর বিশ^মনিকে খুঁজে না পেয়ে বাগানের বিভিন্ন সেকশনে খুঁজতে থাকেন তার পরিবার। এক পর্যায়ে গত ৭ ডিসেম্বর তার লাশ উদনাছড়া চা বাগানের ১১নং সেকশনের ভেতরে একটি গাছের নিচে ওড়না দিয়ে গলায় বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

তিনি জানান, রনজিত সাঁওতালকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুরো বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বিশ^মনির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে থানা পুলিশকে জানান।