সিলেট ০২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি, বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে অবস্থান Logo আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের এমডি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বিতর্কে সাইদ একরাম উল্লা Logo মৌলভীবাজারে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র নতুন কমিটি: আহ্বায়ক শাহ জামাল, সদস্য সচিব ইমরান, সদস্য ২৩ Logo শ্রীমঙ্গলে বৃক্ষরোপণ ও উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচিতে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী Logo ট্যাক্স রিটার্ন প্রমাণপত্রের অজুহাতে জিম্মি সেবাগ্রহীতা, শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ Logo শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক পরিচয়ে ভূমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ, বোনের সংবাদ সম্মেলন Logo মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, স্বামী গ্রেপ্তার Logo ইসরাইলি গুলিতে প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক Logo হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর: বাংলাদেশে যাতে আবার সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া না দেয়হোলি আর্টিজান Logo ঠাকুরগাঁও থেকে একসঙ্গে নিখোঁজ চার ছাত্রী সিলেটে উদ্ধারনিখোঁজ ছাত্রী

আগামীর বাংলাদেশ বিষাদের নয়, উৎসবমুখর হবে; প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব

শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ উদ্বোধন করছেন প্রধান অতিথি মোঃ সিরাজ উদ্দিন মিয়া

আগামীর বাংলাদেশ বিষাদের নয়, উৎসবমুখর হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব মোঃ সিরাজ উদ্দিন মিয়া। তিনি বলেছেন, “আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ৫ আগস্টের পর জাতির এক ক্লান্তিলগ্নে দেশ ও জাতির হাল ধরেছেন। তিনি সব সময় বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান, যেখানে দেশের মানুষ হাসিমুখে থাকবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে উৎসবমুখর; দেশের মানুষ সর্বদা উৎসব ও আনন্দে থাকবে।”

শুক্রবার বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “উৎসবমুখর বাংলাদেশের জন্য এই আয়োজন একটি সূচনা হতে পারে। কারণ, শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজারের বৈচিত্র্য প্রশংসনীয়। এই বৈচিত্র্য নিয়েই আমাদের বসবাস করতে হবে। আমাদের নানা পরিচয় আছে, সংস্কৃতি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমরা একই ভূখণ্ডের বাসিন্দা। শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যের মধ্যকার ঐক্য সম্ভবত বাংলাদেশের অন্য কোথাও নেই। এটাই শ্রীমঙ্গলের বিশেষত্ব।”

মুখ্য সচিব বলেন, “এখানে প্রবেশের সময় বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের হাসিমাখা মুখ দেখে বিশ্বাস হয়, এই হাসিমুখ চিরস্থায়ী হবে। শ্রীমঙ্গলসহ সিলেট বিভাগ পর্যটনের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানে পাহাড়, হাওর, জলাভূমি, বৃক্ষরাজি, বন, চা বাগানসহ অনেক বৈচিত্র্যের সমাহার আছে, যা বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলে নেই। এখানকার প্রকৃতি অপূর্ব সাজে সজ্জিত। প্রকৃতি ও মানুষের বৈচিত্র্যকে মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে পর্যটনের জন্য অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড হারমোনি উৎসব আয়োজনের জন্য শ্রীমঙ্গলকে বেছে নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত। এখানকার প্রকৃতি ও মানুষের বৈচিত্র্যের মেলবন্ধন পর্যটন বিকাশে সহায়ক হবে। স্থানীয় প্রায় ২৩টি নৃ-গোষ্ঠীর মানুষকে একত্রিত করার মাধ্যমে ইকো ও কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে তোলা সম্ভব। তাদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে এই অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।”

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ নাসরীন জাহান, সিলেট বিভাগের কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খান মোঃ রেজা-উন-নবী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ ইসরাইল হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায়।

মেলায় স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উপকরণ প্রদর্শনীসহ ঐতিহ্যবাহী খাবারের ৫০টি স্টল এবং প্রায় ২৬টি নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করা হয়। অতিথিরা তাদের বর্ণিল জীবনধারা ও সংস্কৃতির প্রথম দিনের আয়োজন উপভোগ করেন, যা রাত পর্যন্ত চলেছে। বৈচিত্র্যের এই মেলবন্ধনের উৎসবটি চলবে আগামী রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত।

Write Your Comment

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি, বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে অবস্থান

আগামীর বাংলাদেশ বিষাদের নয়, উৎসবমুখর হবে; প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব

আপডেট সময় ০৪:১৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫

আগামীর বাংলাদেশ বিষাদের নয়, উৎসবমুখর হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব মোঃ সিরাজ উদ্দিন মিয়া। তিনি বলেছেন, “আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ৫ আগস্টের পর জাতির এক ক্লান্তিলগ্নে দেশ ও জাতির হাল ধরেছেন। তিনি সব সময় বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান, যেখানে দেশের মানুষ হাসিমুখে থাকবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে উৎসবমুখর; দেশের মানুষ সর্বদা উৎসব ও আনন্দে থাকবে।”

শুক্রবার বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “উৎসবমুখর বাংলাদেশের জন্য এই আয়োজন একটি সূচনা হতে পারে। কারণ, শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজারের বৈচিত্র্য প্রশংসনীয়। এই বৈচিত্র্য নিয়েই আমাদের বসবাস করতে হবে। আমাদের নানা পরিচয় আছে, সংস্কৃতি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমরা একই ভূখণ্ডের বাসিন্দা। শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যের মধ্যকার ঐক্য সম্ভবত বাংলাদেশের অন্য কোথাও নেই। এটাই শ্রীমঙ্গলের বিশেষত্ব।”

মুখ্য সচিব বলেন, “এখানে প্রবেশের সময় বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের হাসিমাখা মুখ দেখে বিশ্বাস হয়, এই হাসিমুখ চিরস্থায়ী হবে। শ্রীমঙ্গলসহ সিলেট বিভাগ পর্যটনের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানে পাহাড়, হাওর, জলাভূমি, বৃক্ষরাজি, বন, চা বাগানসহ অনেক বৈচিত্র্যের সমাহার আছে, যা বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলে নেই। এখানকার প্রকৃতি অপূর্ব সাজে সজ্জিত। প্রকৃতি ও মানুষের বৈচিত্র্যকে মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে পর্যটনের জন্য অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড হারমোনি উৎসব আয়োজনের জন্য শ্রীমঙ্গলকে বেছে নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত। এখানকার প্রকৃতি ও মানুষের বৈচিত্র্যের মেলবন্ধন পর্যটন বিকাশে সহায়ক হবে। স্থানীয় প্রায় ২৩টি নৃ-গোষ্ঠীর মানুষকে একত্রিত করার মাধ্যমে ইকো ও কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে তোলা সম্ভব। তাদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে এই অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।”

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ নাসরীন জাহান, সিলেট বিভাগের কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খান মোঃ রেজা-উন-নবী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ ইসরাইল হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায়।

মেলায় স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উপকরণ প্রদর্শনীসহ ঐতিহ্যবাহী খাবারের ৫০টি স্টল এবং প্রায় ২৬টি নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করা হয়। অতিথিরা তাদের বর্ণিল জীবনধারা ও সংস্কৃতির প্রথম দিনের আয়োজন উপভোগ করেন, যা রাত পর্যন্ত চলেছে। বৈচিত্র্যের এই মেলবন্ধনের উৎসবটি চলবে আগামী রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত।