ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ছিল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন—সোলো ফ্লাইট ট্রেনিং (Solo Flight Training)।

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • ৭৪২ ভিউ

লেফটেন্যান্ট তৌকির

সোলো ফ্লাইট ট্রেনিং হলো একজন পাইলটের ট্রেনিংয়ের সর্বশেষ ধাপ, যেখানে পাইলটকে কোনো নেভিগেটর, কো-পাইলট বা ইন্সট্রাক্টর ছাড়াই একাই ফাইটার জেট অপারেট করতে হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়, একজন পাইলট ফাইটার জেট পরিচালনায় কতটা দক্ষ ও প্রস্তুত। আজকের ট্রেনিং মিশনটি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির তার এফ-৭ ফাইটার জেট নিয়ে সফলভাবে শুরু করেন কুর্মিটোলা পুরাতন এয়ারফোর্স বেস থেকে।

নির্ধারিত রুটে উত্তরা, দিয়াবাড়ি, বাড্ডা, হাতিরঝিল ও রামপুরার আকাশে নিখুঁতভাবে ফ্লাই করছিলেন তিনি।
তবে কিছুক্ষণ পরই বিমানটিতে সমস্যা অনুভব করেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির।
তিনি কন্ট্রোল রুমে বার্তা পাঠান—তার বিমান নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, আর উড়তে পারছে না।
কন্ট্রোল রুম থেকে তাৎক্ষণিক ইজেক্ট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিমানটি রক্ষা ও জনবহুল এলাকায় বড় ধরণের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।
তিনি বিমানের সর্বোচ্চ ম্যাক স্পিড নিয়ে বেসের দিকে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তবে, এ সময় কন্ট্রোল রুমের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর মাত্র এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়।

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ১৯, আহত দেড় শতাধিক

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলটসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন বলে আইএসপিআর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এখনো পর্যন্ত জানা গেছে, এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে ব্যাপক তদন্ত প্রয়োজন।
বিমানটি কী ধরণের টেকনিক্যাল ফেইলিওরের কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা শুধুমাত্র বিশদ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহত ও নিহতদের পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Write Your Comment

শ্রীমঙ্গলে ছেলের ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধ পিতা নিহত, বড় ভাই গুরুতর আহত

আজ ছিল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন—সোলো ফ্লাইট ট্রেনিং (Solo Flight Training)।

আপডেট সময় ০৭:২০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

সোলো ফ্লাইট ট্রেনিং হলো একজন পাইলটের ট্রেনিংয়ের সর্বশেষ ধাপ, যেখানে পাইলটকে কোনো নেভিগেটর, কো-পাইলট বা ইন্সট্রাক্টর ছাড়াই একাই ফাইটার জেট অপারেট করতে হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়, একজন পাইলট ফাইটার জেট পরিচালনায় কতটা দক্ষ ও প্রস্তুত। আজকের ট্রেনিং মিশনটি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির তার এফ-৭ ফাইটার জেট নিয়ে সফলভাবে শুরু করেন কুর্মিটোলা পুরাতন এয়ারফোর্স বেস থেকে।

নির্ধারিত রুটে উত্তরা, দিয়াবাড়ি, বাড্ডা, হাতিরঝিল ও রামপুরার আকাশে নিখুঁতভাবে ফ্লাই করছিলেন তিনি।
তবে কিছুক্ষণ পরই বিমানটিতে সমস্যা অনুভব করেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির।
তিনি কন্ট্রোল রুমে বার্তা পাঠান—তার বিমান নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, আর উড়তে পারছে না।
কন্ট্রোল রুম থেকে তাৎক্ষণিক ইজেক্ট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিমানটি রক্ষা ও জনবহুল এলাকায় বড় ধরণের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।
তিনি বিমানের সর্বোচ্চ ম্যাক স্পিড নিয়ে বেসের দিকে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তবে, এ সময় কন্ট্রোল রুমের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর মাত্র এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়।

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ১৯, আহত দেড় শতাধিক

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলটসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন বলে আইএসপিআর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এখনো পর্যন্ত জানা গেছে, এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে ব্যাপক তদন্ত প্রয়োজন।
বিমানটি কী ধরণের টেকনিক্যাল ফেইলিওরের কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা শুধুমাত্র বিশদ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহত ও নিহতদের পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।