সিলেট ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo ট্যাক্স রিটার্ন প্রমাণপত্রের অজুহাতে জিম্মি সেবাগ্রহীতা, শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ Logo শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক পরিচয়ে ভূমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ, বোনের সংবাদ সম্মেলন Logo মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, স্বামী গ্রেপ্তার Logo ইসরাইলি গুলিতে প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক Logo হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর: বাংলাদেশে যাতে আবার সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া না দেয়হোলি আর্টিজান Logo ঠাকুরগাঁও থেকে একসঙ্গে নিখোঁজ চার ছাত্রী সিলেটে উদ্ধারনিখোঁজ ছাত্রী Logo মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা Logo সিলেটে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ৯ দিন ধরে নিখোঁজ নারী, তদন্তে পুলিশ Logo ঘণ্টায় ৩৩.২ কিলোমিটার গতিতে ছুটলেন ভিনিসিয়ুস, ব্রাজিলের অন্য ফুটবলারদের গতি কত? Logo ‘ব্রাজিলিয়ানরা বাংলাদেশকে ভালোবাসে’—বাংলাদেশের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন আলিসন

মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: যুবকের মৃত্যুদণ্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শিশুধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা।

মেহেরপুরে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাকিল হোসেন (২৪) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, জরিমানার অর্থ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করেন শাকিল। ঘটনার পর শিশুটি তার বাবাকে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়দের কাছে খবর পৌঁছালে তারা অভিযুক্তকে আটক করে মারধর করেন।

খবর পেয়ে গাংনী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাকিলকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুটিকে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আতাউর রহমান গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

পরে একই বছরের ১৩ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করলে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। সশরীরে ও ভিডিও কলে মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জেরা সম্পন্ন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সশরীর ও ভার্চ্যুয়াল সাক্ষ্যের সমন্বয়ে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মারুফ আহমেদ জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

সুত্র: প্র/আ-24.05.2026

Write Your Comment

ট্যাক্স রিটার্ন প্রমাণপত্রের অজুহাতে জিম্মি সেবাগ্রহীতা, শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ

মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: যুবকের মৃত্যুদণ্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট সময় ০৭:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

মেহেরপুরে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাকিল হোসেন (২৪) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, জরিমানার অর্থ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করেন শাকিল। ঘটনার পর শিশুটি তার বাবাকে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়দের কাছে খবর পৌঁছালে তারা অভিযুক্তকে আটক করে মারধর করেন।

খবর পেয়ে গাংনী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাকিলকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুটিকে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আতাউর রহমান গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

পরে একই বছরের ১৩ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করলে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। সশরীরে ও ভিডিও কলে মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জেরা সম্পন্ন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সশরীর ও ভার্চ্যুয়াল সাক্ষ্যের সমন্বয়ে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মারুফ আহমেদ জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

সুত্র: প্র/আ-24.05.2026