ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ১৯, আহত দেড় শতাধিক

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • ৬৭৫ ভিউ

ছবি : সংগৃহীত

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯ জন, আহত দেড় শতাধিক। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আজ সোমবার স্কুল ভবনে বিধ্বস্ত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ পর্যন্ত হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইএসপিআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত হওয়া প্রশিক্ষণ বিমানের পাইলটসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৬৪ জন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামালও ১৯ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন।

আজ বেলা ১টার পর স্কুল ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। আইএসপিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সোমবার বেলা ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে এবং পরে বিধ্বস্ত হয়।

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে মাইলস্টোনের দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন,
‘আপনারা সবাই জানেন, আজ বিমানবাহিনীর একটি এফ–সেভেন বিজেআই ফাইটার এয়ারক্র্যাফ্ট আনুমানিক একটার দিকে আমাদের মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরা শাখার দোতলা স্কুল ভবনে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করেছে।
এই দোতলা ভবনের প্রথম তলায় ছিল তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বাচ্চাদের ক্লাস। দ্বিতীয় তলায় ছিল দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস। তার সাথে ছিল অধ্যক্ষের অফিস ও মিটিং রুম। একটি কোচিংয়ের ক্লাস চলছিল।
ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ের সময় স্কুল ছুটি হয়ে গিয়েছিল এবং টিচার্স রুমের পাশে ল্যান্ডিং হওয়ায় ওই জায়গায় অনেক শিশু ও অভিভাবক জড়ো হয়েছিল।’

ফায়ার সার্ভিস আনুমানিক বেলা ১টা ৮ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পায় এবং দ্রুত ইউনিট পৌঁছে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। মোট ৯টি ইউনিট উদ্ধার ও অগ্নি নির্বাপণে অংশ নেয়। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

হতাহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক জানান,
‘আমাদের হিসাবে এখন পর্যন্ত আমরা ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি, তারা বিভিন্ন হাসপাতালে আছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা একযোগে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেওয়া হবে।’

মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, ‘যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি, সময় লাগবে। আমাদের ধারণা, অধিকাংশই শিশু।’ ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকে জানান, মাইলস্টোন কলেজের সামনে জনতার ভিড়, বিধ্বস্ত ভবন থেকে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স বের হচ্ছে।
আহতদের জন্য রক্তদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

Write Your Comment

শ্রীমঙ্গলে ছেলের ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধ পিতা নিহত, বড় ভাই গুরুতর আহত

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ১৯, আহত দেড় শতাধিক

আপডেট সময় ০৬:০৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯ জন, আহত দেড় শতাধিক। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আজ সোমবার স্কুল ভবনে বিধ্বস্ত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ পর্যন্ত হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইএসপিআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত হওয়া প্রশিক্ষণ বিমানের পাইলটসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৬৪ জন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামালও ১৯ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন।

আজ বেলা ১টার পর স্কুল ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। আইএসপিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সোমবার বেলা ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে এবং পরে বিধ্বস্ত হয়।

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে মাইলস্টোনের দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন,
‘আপনারা সবাই জানেন, আজ বিমানবাহিনীর একটি এফ–সেভেন বিজেআই ফাইটার এয়ারক্র্যাফ্ট আনুমানিক একটার দিকে আমাদের মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরা শাখার দোতলা স্কুল ভবনে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করেছে।
এই দোতলা ভবনের প্রথম তলায় ছিল তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বাচ্চাদের ক্লাস। দ্বিতীয় তলায় ছিল দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস। তার সাথে ছিল অধ্যক্ষের অফিস ও মিটিং রুম। একটি কোচিংয়ের ক্লাস চলছিল।
ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ের সময় স্কুল ছুটি হয়ে গিয়েছিল এবং টিচার্স রুমের পাশে ল্যান্ডিং হওয়ায় ওই জায়গায় অনেক শিশু ও অভিভাবক জড়ো হয়েছিল।’

ফায়ার সার্ভিস আনুমানিক বেলা ১টা ৮ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পায় এবং দ্রুত ইউনিট পৌঁছে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। মোট ৯টি ইউনিট উদ্ধার ও অগ্নি নির্বাপণে অংশ নেয়। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

হতাহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক জানান,
‘আমাদের হিসাবে এখন পর্যন্ত আমরা ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি, তারা বিভিন্ন হাসপাতালে আছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা একযোগে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেওয়া হবে।’

মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, ‘যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি, সময় লাগবে। আমাদের ধারণা, অধিকাংশই শিশু।’ ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকে জানান, মাইলস্টোন কলেজের সামনে জনতার ভিড়, বিধ্বস্ত ভবন থেকে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স বের হচ্ছে।
আহতদের জন্য রক্তদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।