মৌলভীবাজার ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
Logo মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাস ও পূর্ব নাম Logo সুলতানি আমলে মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ’সূরা মসজিদ’ Logo নিজ এলাকায় ফিরেই হাসপাতালে এমপি হাজী মুজিব; স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তনের অঙ্গীকার Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ৪ Logo রমজানে সেহরি-ইফতার ও তারাবিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo মধ্যপ্রাচ্যে রমজান শুরু কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায় Logo ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান Logo নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ Logo ৫৫ বছর পর মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপির ঐতিহাসিক জয়, বিশাল ব্যবধানে ধানের শীষের বিজয় Logo শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন; ভোটদানের হার ৫০-৫৫ শতাংশ হবার সম্ভাবনা

মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাস ও পূর্ব নাম

সিলেট বিভাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও চা বাগানের জন্য খ্যাত মৌলভীবাজার জেলা-এর জন্মকথা জানলে মিলবে প্রশাসনিক বিবর্তনের দীর্ঘ অধ্যায়। বহুদিনের প্রশ্ন-মৌলভীবাজার জেলা কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? কবে ও কীভাবে এই নামের সূচনা? “মৌলভীবাজার কোনো একক ব্যক্তির উদ্যোগে নয়; প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ১৯৮৪ সালে।”

ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, ১৮৮২ সালে তৎকালীন সিলেট জেলা-এর দক্ষিণাংশ নিয়ে একটি উপ-বিভাগ গঠন করা হয়, যার নাম ছিল “দক্ষিণ সিলেট” (South Sylhet)। এটি ছিল ব্রিটিশ ভারত সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ। তখনকার জেলা প্রশাসনের অধীনেই এ উপ-বিভাগ পরিচালিত হতো। অর্থাৎ, মৌলভীবাজারের প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ আমলেই।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচির আওতায় ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালে দক্ষিণ সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার। সে সময় দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তাঁর শাসনামলে দেশব্যাপী বেশ কয়েকটি নতুন জেলা গঠন করা হয়, মৌলভীবাজার ছিল তার অন্যতম। ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ ঘোষণা, যার পূর্ব নাম ছিল দক্ষিণ সিলেট।

“মৌলভীবাজার” নামটির উৎপত্তি ১৮শ শতাব্দীতে। স্থানীয় বিশিষ্ট আলেম ও সমাজনেতা মৌলভি সৈয়দ কুদরতউল্লাহ একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নামানুসারেই বাজারটির নাম হয় ‘মৌলভীবাজার’। ক্রমে সেই বাজারের নাম থেকেই থানা, মহকুমা এবং পরে জেলার নামকরণ হয়। ‘মৌলভি সৈয়দ কুদরতউল্লাহ প্রতিষ্ঠিত বাজার থেকেই জেলার নামের সূচনা।’’

বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা দেশের চা শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ চা বাগান ও পাহাড়ি টিলা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কৃষি, প্রবাসী আয়ের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও এ জেলার অবদান উল্লেখযোগ্য।

ঐতিহাসিকভাবে ব্রিটিশ আমলে উপ-বিভাগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘দক্ষিণ সিলেট’। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে এটি “মৌলভীবাজার জেলা” হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আর নামের শিকড় লুকিয়ে আছে ১৮শ শতকের মৌলভি সৈয়দ কুদরতউল্লাহ প্রতিষ্ঠিত বাজারে। ইতিহাস, প্রশাসন ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে মৌলভীবাজার আজ এক সমৃদ্ধ জেলার নাম।

মুক্তবার্তা২৪.কম/ সউহে

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাস ও পূর্ব নাম

মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাস ও পূর্ব নাম

আপডেট সময় ১২:৩১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেট বিভাগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও চা বাগানের জন্য খ্যাত মৌলভীবাজার জেলা-এর জন্মকথা জানলে মিলবে প্রশাসনিক বিবর্তনের দীর্ঘ অধ্যায়। বহুদিনের প্রশ্ন-মৌলভীবাজার জেলা কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? কবে ও কীভাবে এই নামের সূচনা? “মৌলভীবাজার কোনো একক ব্যক্তির উদ্যোগে নয়; প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ১৯৮৪ সালে।”

ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, ১৮৮২ সালে তৎকালীন সিলেট জেলা-এর দক্ষিণাংশ নিয়ে একটি উপ-বিভাগ গঠন করা হয়, যার নাম ছিল “দক্ষিণ সিলেট” (South Sylhet)। এটি ছিল ব্রিটিশ ভারত সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ। তখনকার জেলা প্রশাসনের অধীনেই এ উপ-বিভাগ পরিচালিত হতো। অর্থাৎ, মৌলভীবাজারের প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ আমলেই।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচির আওতায় ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালে দক্ষিণ সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার। সে সময় দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তাঁর শাসনামলে দেশব্যাপী বেশ কয়েকটি নতুন জেলা গঠন করা হয়, মৌলভীবাজার ছিল তার অন্যতম। ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ ঘোষণা, যার পূর্ব নাম ছিল দক্ষিণ সিলেট।

“মৌলভীবাজার” নামটির উৎপত্তি ১৮শ শতাব্দীতে। স্থানীয় বিশিষ্ট আলেম ও সমাজনেতা মৌলভি সৈয়দ কুদরতউল্লাহ একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নামানুসারেই বাজারটির নাম হয় ‘মৌলভীবাজার’। ক্রমে সেই বাজারের নাম থেকেই থানা, মহকুমা এবং পরে জেলার নামকরণ হয়। ‘মৌলভি সৈয়দ কুদরতউল্লাহ প্রতিষ্ঠিত বাজার থেকেই জেলার নামের সূচনা।’’

বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা দেশের চা শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ চা বাগান ও পাহাড়ি টিলা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কৃষি, প্রবাসী আয়ের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও এ জেলার অবদান উল্লেখযোগ্য।

ঐতিহাসিকভাবে ব্রিটিশ আমলে উপ-বিভাগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘দক্ষিণ সিলেট’। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে এটি “মৌলভীবাজার জেলা” হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আর নামের শিকড় লুকিয়ে আছে ১৮শ শতকের মৌলভি সৈয়দ কুদরতউল্লাহ প্রতিষ্ঠিত বাজারে। ইতিহাস, প্রশাসন ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে মৌলভীবাজার আজ এক সমৃদ্ধ জেলার নাম।

মুক্তবার্তা২৪.কম/ সউহে