বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

শিরোনাম
প্রকাশ: ১৫:২১, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ |

শ্রীমঙ্গলে ড্রেন নিয়ে বিরোধে সাবানা হত্যা: চারজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের কারাদণ্ড

shabana Marder Mamla Ray

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাবানা নামের এক নারীকে হত্যার দায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০১৬ সালের এ হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ শুনানি এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নাসির মিয়া, বিলাল মিয়া, গিয়াস মিয়া ও দুলাল মিয়া। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আনা হত্যার অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দেন। দণ্ডিতদের মধ্যে নাসির মিয়া ও বিলাল মিয়া সহোদর। অন্যদিকে গিয়াস মিয়া ও দুলাল মিয়া সম্পর্কে নিহত সাবানার সৎভাই।

রাষ্ট্রপক্ষ ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লইয়ারকুল গ্রামে একটি পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ড্রেন নির্মাণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাবানার ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাঁকে একাধিকবার আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে নিহতের পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলাটির সিআর নম্বর ৯৬/১৬ এবং দায়রা নম্বর ৪৪/২০১৭।

মামলায় সাক্ষী ছিলেন মোট ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুরুতে মামলার আসামি ছিলেন ১৪ জন। বিচারকাজ চলার সময় আসামি সুরুক মিয়া, রাজা মিয়া ও ফারুক মিয়া মারা যান। ফলে তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

একই মামলার অন্য ধারায় আরও দুই আসামিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নিহতের মা ও মামলার বাদী মায়া বেগমকে গুরুতর জখম করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মহিবুর রহমান অমৃতকে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া সেলিনা বেগমকে মারধরের দায়ে জয়নাল মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় হুকুমদাতা হিসেবে অভিযুক্ত আবুল বাশার এবং আলী ইসলাম, হাসি বেগম, জাভেদ ও নাজমীন বেগমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, সম্পত্তি ও পানি নিষ্কাশনের মতো বিষয় নিয়ে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে। তাঁর মতে, এ রায় বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।

রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। নিহতের পরিবারের সদস্যরাও এ সময় কান্নাকাটি করেন। পরে পুলিশি পাহারায় আসামিদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে আদালত চত্বরে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন