মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

শিরোনাম
প্রকাশ: ২০:১৭, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ |

মৌলভীবাজারে পুলিশ পরিচয়ে মহিষবাহী পিকআপ ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৫

ডাকাতি হওয়া পিকআপ উদ্ধার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন দুজন

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রায়শ্রী এলাকায় চারটি মহিষসহ পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সর্দারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া পিকআপটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মেহেদী হাসান মুন্না (২৬), জুমন মিয়া (২৬), নজরুল ইসলাম (২৬), রাহেল মিয়া (২৩) ও সম্রাট মিয়া (২৮)। তাঁদের সবার বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। পুলিশের দাবি, জুমন মিয়া এই ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ৬ নম্বর একাটুনা ইউনিয়নের রায়শ্রী এলাকায় ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বাসিন্দা শহীদ মিয়া (৪২) কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার থেকে চারটি মহিষ কিনে পিকআপে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল ব্যক্তি পিকআপটির গতিরোধ করেন। তাঁরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি নিয়ে যান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। ১৯ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২৪।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে মৌলভীবাজার পৌরসভার মনু ব্যারেজ এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া খালি পিকআপটি উদ্ধার করে।

এরপর গত ১ নভেম্বর সদর মডেল থানা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে মেহেদী হাসান মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের কথিত সর্দার জুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দলের অন্য সদস্য নজরুল ইসলাম, রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জুমন মিয়ার নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন সময় গাড়ি, গরু-মহিষ ও অন্যান্য মালামাল লুট করত। ঘটনার দিনও তাঁরা তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে মহিষবাহী পিকআপটির পিছু নেন। পরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে গাড়িটি থামিয়ে চালক ও মালিককে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি নিয়ে যান।

পরে মহিষগুলো বালিয়াকান্দি খেয়াঘাটসংলগ্ন একটি জঙ্গলে রাখা হয়। পরদিন সেগুলো সিলেটে নিয়ে বিক্রি করা হয়। বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়া ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযানে সদর মডেল থানার এসআই রিপটন পুরকায়স্থ, এসআই আশরাফুল আলম চৌধুরী, এসআই জয়ন্ত সরকার, এসআই আবু সাঈদ মোহাম্মদ তৌহিদ ও এএসআই রানা মিয়াসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন