সিলেট ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক পরিচয়ে ভূমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ, বোনের সংবাদ সম্মেলন Logo মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, স্বামী গ্রেপ্তার Logo ইসরাইলি গুলিতে প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক Logo হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর: বাংলাদেশে যাতে আবার সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া না দেয়হোলি আর্টিজান Logo ঠাকুরগাঁও থেকে একসঙ্গে নিখোঁজ চার ছাত্রী সিলেটে উদ্ধারনিখোঁজ ছাত্রী Logo মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা Logo সিলেটে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ৯ দিন ধরে নিখোঁজ নারী, তদন্তে পুলিশ Logo ঘণ্টায় ৩৩.২ কিলোমিটার গতিতে ছুটলেন ভিনিসিয়ুস, ব্রাজিলের অন্য ফুটবলারদের গতি কত? Logo ‘ব্রাজিলিয়ানরা বাংলাদেশকে ভালোবাসে’—বাংলাদেশের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন আলিসন Logo শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে বর্ণাঢ্য মৌসুমী ফল উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত
জাল সনদে সাংবাদিকতা, চাঁদাবাজি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইলেন ভুক্তভোগী

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক পরিচয়ে ভূমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ, বোনের সংবাদ সম্মেলন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকার এক স্থানীয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভূমি দখলচেষ্টা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই আপন বোন মল্লিকা আক্তার (৩৩)। তিনি মৃত এরশাদুর রহমান আরজুর কন্যা।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘদিন সিলেট শহরে সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মল্লিকা আক্তারের বড় ভাই সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান। কয়েক বছর আগে চতুর্থ স্ত্রীকে নিয়ে তিনি মল্লিকা আক্তারের বসতবাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর পঞ্চম শ্রেণি পাস করা এই ব্যক্তি হঠাৎ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া শুরু করেন এবং সেই পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে বসতভিটা দখলের চেষ্টা চালাতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে।

লিখিত বক্তব্যে মল্লিকা আক্তার বলেন, বসতভিটা দখলে নিতে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে থানা-পুলিশকে প্রভাবিত করে তাঁর পরিবারকে সীমাহীন হয়রানির চেষ্টা করে আসছেন তাঁর ভাই। তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাব খাটিয়ে শ্রীমঙ্গল থানা থেকে নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এসে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মাদক বিক্রেতা সাজিয়ে ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে গ্রামবাসীর সমর্থনে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর প্রায় এক বছর আগে নিজের হাত নিজেই কেটে স্বামী ও ভাইদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে স্বামীকে জেল খাটানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

মল্লিকা আক্তার আরও দাবি করেন, তাঁর ভাই প্রকৃতপক্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু মেট্রিক পাসের জাল সনদ তৈরি করে সাংবাদিক পরিচয়ে এবং নামের আগে ‘সৈয়দ’ উপাধি যুক্ত করে সমাজে বিচরণ করছেন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতন করে যাচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্পত্তির লোভে প্রায়ই বাড়িতে এসে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি কলেজপড়ুয়া তাঁর দুই মেয়ে কলেজে যাওয়ার পথে বখাটে ছেলেদের লেলিয়ে দিয়ে উত্ত্যক্ত করানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ নিয়ে একাধিকবার এলাকার মুরব্বিদের মাধ্যমে সালিশ বসলেও তাঁর ভাই কোনো সিদ্ধান্ত মানেননি, বরং প্রকাশ্যে দাবি করে বেড়ান যে তাঁর যথেষ্ট ক্ষমতা আছে এবং ইচ্ছা করলে ডিসি, এসপি ও ওসির চাকরি খেয়ে দিতে পারেন। মল্লিকা আক্তারের অভিযোগ, এলাকাবাসীকে সাংবাদিকতার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছেন তাঁর ভাই এবং চাঁদা না দিলে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অসহায় মানুষকে হয়রানি করছেন।

গত ৪ জুলাই সিরাজুল ইসলাম হাসান তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেন মল্লিকা আক্তার। তিনি জানান, চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি-লাথি মারা হয় এবং পরনের কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি ষোলো আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। এ ঘটনার পরদিন ৫ জুলাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মল্লিকা আক্তার। পাশাপাশি তাঁর ভাইয়ের প্রকৃত শিক্ষাগত ও সাংবাদিকতার যোগ্যতা এবং প্রকাশ্যে ডিসি-এসপির চাকরি খাওয়ার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর স্বামী, সন্তান ও ছোট ভাই উপস্থিত ছিলেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বোন ও দুলাভাই প্রায়ই মাদক সেবন করে বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করেন এবং এর প্রতিবাদ করার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। জমির মালিকানা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে ছোট ভাই আল আমিনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। আল আমিন জানান, মায়ের নামে থাকা ওই জমি কেনার সময় বেশিরভাগ অর্থ জোগান দিয়েছিলেন বড় বোন মল্লিকা আক্তারই।

Write Your Comment

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক পরিচয়ে ভূমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ, বোনের সংবাদ সম্মেলন

জাল সনদে সাংবাদিকতা, চাঁদাবাজি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইলেন ভুক্তভোগী

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক পরিচয়ে ভূমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ, বোনের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় ০৫:০৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকার এক স্থানীয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভূমি দখলচেষ্টা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই আপন বোন মল্লিকা আক্তার (৩৩)। তিনি মৃত এরশাদুর রহমান আরজুর কন্যা।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘদিন সিলেট শহরে সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মল্লিকা আক্তারের বড় ভাই সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান। কয়েক বছর আগে চতুর্থ স্ত্রীকে নিয়ে তিনি মল্লিকা আক্তারের বসতবাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর পঞ্চম শ্রেণি পাস করা এই ব্যক্তি হঠাৎ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া শুরু করেন এবং সেই পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে বসতভিটা দখলের চেষ্টা চালাতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে।

লিখিত বক্তব্যে মল্লিকা আক্তার বলেন, বসতভিটা দখলে নিতে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে থানা-পুলিশকে প্রভাবিত করে তাঁর পরিবারকে সীমাহীন হয়রানির চেষ্টা করে আসছেন তাঁর ভাই। তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাব খাটিয়ে শ্রীমঙ্গল থানা থেকে নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এসে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মাদক বিক্রেতা সাজিয়ে ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে গ্রামবাসীর সমর্থনে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর প্রায় এক বছর আগে নিজের হাত নিজেই কেটে স্বামী ও ভাইদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে স্বামীকে জেল খাটানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

মল্লিকা আক্তার আরও দাবি করেন, তাঁর ভাই প্রকৃতপক্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু মেট্রিক পাসের জাল সনদ তৈরি করে সাংবাদিক পরিচয়ে এবং নামের আগে ‘সৈয়দ’ উপাধি যুক্ত করে সমাজে বিচরণ করছেন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতন করে যাচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্পত্তির লোভে প্রায়ই বাড়িতে এসে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি কলেজপড়ুয়া তাঁর দুই মেয়ে কলেজে যাওয়ার পথে বখাটে ছেলেদের লেলিয়ে দিয়ে উত্ত্যক্ত করানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ নিয়ে একাধিকবার এলাকার মুরব্বিদের মাধ্যমে সালিশ বসলেও তাঁর ভাই কোনো সিদ্ধান্ত মানেননি, বরং প্রকাশ্যে দাবি করে বেড়ান যে তাঁর যথেষ্ট ক্ষমতা আছে এবং ইচ্ছা করলে ডিসি, এসপি ও ওসির চাকরি খেয়ে দিতে পারেন। মল্লিকা আক্তারের অভিযোগ, এলাকাবাসীকে সাংবাদিকতার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছেন তাঁর ভাই এবং চাঁদা না দিলে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অসহায় মানুষকে হয়রানি করছেন।

গত ৪ জুলাই সিরাজুল ইসলাম হাসান তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেন মল্লিকা আক্তার। তিনি জানান, চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি-লাথি মারা হয় এবং পরনের কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি ষোলো আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। এ ঘটনার পরদিন ৫ জুলাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মল্লিকা আক্তার। পাশাপাশি তাঁর ভাইয়ের প্রকৃত শিক্ষাগত ও সাংবাদিকতার যোগ্যতা এবং প্রকাশ্যে ডিসি-এসপির চাকরি খাওয়ার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর স্বামী, সন্তান ও ছোট ভাই উপস্থিত ছিলেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বোন ও দুলাভাই প্রায়ই মাদক সেবন করে বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করেন এবং এর প্রতিবাদ করার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। জমির মালিকানা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে ছোট ভাই আল আমিনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। আল আমিন জানান, মায়ের নামে থাকা ওই জমি কেনার সময় বেশিরভাগ অর্থ জোগান দিয়েছিলেন বড় বোন মল্লিকা আক্তারই।