মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের পুরানবাজার এলাকায় একটি দোকানঘরকে কেন্দ্র করে ভাড়া বিরোধের জেরে হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে শ্রীমঙ্গলে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগকারী ভোলানাথ গোসাই জানান, তাদের পারিবারিক মালিকানাধীন জায়গায় নির্মিত একটি দোকানঘর দীর্ঘদিন ধরে ভাড়ায় পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে বর্তমান ভাড়াটিয়া জোনাব আলী বেশ কিছুদিন ধরে ভাড়া পরিশোধ করছেন না। ভাড়া চাইতে গেলে তিনি একটি কথিত ক্রয় সংক্রান্ত কাগজ দেখান, কিন্তু এর পক্ষে কোনো বৈধ রেজিস্ট্রি দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভোলানাথ গোসাই আরও বলেন, তাদের পরিবার প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছে এবং দোকান ভাড়ার আয়ের ওপরই তাদের জীবিকা নির্ভরশীল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির মধ্যস্থতায় একটি নতুন ভাড়ার চুক্তি সম্পাদিত হলেও, কয়েক মাস পর পুনরায় ভাড়া প্রদান বন্ধ করে দেন ভাড়াটিয়া।
এ অবস্থায় তিনি তার পৈতৃক সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত জোনাব আলীর বক্তব্য ভিন্ন।
তিনি দাবি করেন, প্রায় ৪২ বছর আগে ১৯৮৭ সালে ভোলানাথ গোসাইয়ের পিতা রামা শংকর গোসাইয়ের কাছ থেকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি নন-রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে জায়গাটি ক্রয় করেন।
সে সময় জমি সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান থাকায় পরবর্তীতে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা থাকলেও, রামা শংকর গোসাইয়ের মৃত্যুর পর তার পুত্র ভোলানাথ গোসাই আর জমিটি রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছেন না।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের দাবি-প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপই হতে পারে একমাত্র সমাধান।
সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ 









