সিলেট ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo ট্যাক্স রিটার্ন প্রমাণপত্রের অজুহাতে জিম্মি সেবাগ্রহীতা, শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ Logo শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক পরিচয়ে ভূমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ, বোনের সংবাদ সম্মেলন Logo মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, স্বামী গ্রেপ্তার Logo ইসরাইলি গুলিতে প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক Logo হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর: বাংলাদেশে যাতে আবার সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া না দেয়হোলি আর্টিজান Logo ঠাকুরগাঁও থেকে একসঙ্গে নিখোঁজ চার ছাত্রী সিলেটে উদ্ধারনিখোঁজ ছাত্রী Logo মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা Logo সিলেটে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ৯ দিন ধরে নিখোঁজ নারী, তদন্তে পুলিশ Logo ঘণ্টায় ৩৩.২ কিলোমিটার গতিতে ছুটলেন ভিনিসিয়ুস, ব্রাজিলের অন্য ফুটবলারদের গতি কত? Logo ‘ব্রাজিলিয়ানরা বাংলাদেশকে ভালোবাসে’—বাংলাদেশের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন আলিসন

ট্যাক্স রিটার্ন প্রমাণপত্রের অজুহাতে জিম্মি সেবাগ্রহীতা, শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ

  • রুবেল আহমদ
  • আপডেট সময় ০৫:২৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • 3

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জমি রেজিস্ট্রি করতে টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক—এমন অজুহাত দাঁড় করিয়ে সাধারণ জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের হয়রানি ও তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার টিন সার্টিফিকেট বা আয়কর রিটার্ন জমা ছাড়াই জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একশ্রেণির অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জমি রেজিস্ট্রিকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে সাধারণ জমি ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন এলাকার আতাউর রহমানের স্ত্রী দিলারা বেগম নামের এক জমি বিক্রেতা তাঁর ১০ শতাংশ জমি বায়না রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে জানতে পারেন, জমি বিক্রি করতে হলে আয়কর সনদ ও রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক। দিলারা বেগম জানান, তাঁর নামে কোনো আয়কর সনদ না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েন। এ সুযোগে টিন সার্টিফিকেট না থাকার অজুহাতে অফিসের এক কর্মকর্তা তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং আয়কর সনদ বা রিটার্ন ছাড়াই জমি বায়না রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে দর-কষাকষির পর ৩০ হাজার টাকায় রফা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৪ মে দিলারা বেগম ৬০ লাখ টাকা মূল্য ধার্য করা ১০ শতক জমি ৩০ লাখ টাকায় বায়না রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। দলিল নম্বর ২৩৫০।

বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৪(৭) ধারা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জমি, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয়, হস্তান্তর কিংবা বায়নানামা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অভিযোগ উঠেছে, রিটার্নের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করার এই বিধানকে অজুহাত বানিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেবল টিন সার্টিফিকেট জটিলতাই নয়, জমির শ্রেণি ও মূল্য কম-বেশি দেখিয়েও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট সেবাগ্রহীতাদের নানাভাবে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি দলিলে সামান্য ভুলের অজুহাতেও ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক জমি ক্রেতা।

শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসা বেশ কিছু জমি ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জমির দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিক্রেতার স্বত্ব নিশ্চিত করার জন্য পর্চা, খাজনা-খারিজ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১ হাজার ১০০ টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় দলিল মূল্যের সাড়ে ৭ শতাংশ ও পৌর এলাকায় সাড়ে ৯ শতাংশ হারে কর জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই নিয়ম মানা হয় না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। তাঁদের ভাষ্যমতে, নানা ফাঁকফোকর বের করে তাঁদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ দাবি করা হয় এবং ঘুষ না দিলে জমি রেজিস্ট্রি আটকে রাখা হয়।

ভুক্তভোগী কয়েকজন বাসিন্দাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। লোটাস হোসেন নামের একজন জানান, জমির পাশে ব্যক্তিগত রাস্তা থাকার কারণে তা বৈধ করাতে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল, এমনকি উত্তরাধিকার সনদের ভিত্তিতে জমি রেজিস্ট্রেশনেও তাঁর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। মো. শাহাব উদ্দিন নামের আরেকজনের অভিযোগ, দলিলে রাস্তার উল্লেখ থাকলেই সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয় এবং এই অর্থের জন্য কোনো সরকারি চালান জমা হয় না, বরং দলিল লেখকের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার নিজেই তা আদায় করেন বলে তাঁর দাবি। সুমন মিয়া নামের একজন বাসিন্দা অফিসের অবকাঠামো নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো সুরক্ষিত সীমানাপ্রাচীরের মধ্যে পরিপাটিভাবে পরিচালিত হলেও শ্রীমঙ্গল অফিসের চারপাশ খোলা এবং প্রধান ফটক ভাঙা থাকলেও তা দেখভালের কেউ নেই।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর বলেন, পৌরসভা এলাকার মধ্যে কোনো জমি রেজিস্ট্রি করতে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক এবং রিটার্ন জমা না দিলে সেবাগ্রহীতাকে অপেক্ষায় থাকতে হয়। তবে টিন সনদ না থাকা সত্ত্বেও জমি রেজিস্ট্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৮ জুলাই এনসিপি নেতা প্রীতম দাসের সুপারিশে এমন একটি দলিল সম্পাদন করা হয়েছিল, যা নিয়ে অফিসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান তিনি। তবে এ জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন সাব-রেজিস্ট্রার। দিলারা বেগমের জমি রেজিস্ট্রি করতে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ তিনি অফিসে নেই, রোববার অফিসে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Write Your Comment

ট্যাক্স রিটার্ন প্রমাণপত্রের অজুহাতে জিম্মি সেবাগ্রহীতা, শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ

ট্যাক্স রিটার্ন প্রমাণপত্রের অজুহাতে জিম্মি সেবাগ্রহীতা, শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:২৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জমি রেজিস্ট্রি করতে টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক—এমন অজুহাত দাঁড় করিয়ে সাধারণ জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের হয়রানি ও তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার টিন সার্টিফিকেট বা আয়কর রিটার্ন জমা ছাড়াই জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একশ্রেণির অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জমি রেজিস্ট্রিকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে সাধারণ জমি ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন এলাকার আতাউর রহমানের স্ত্রী দিলারা বেগম নামের এক জমি বিক্রেতা তাঁর ১০ শতাংশ জমি বায়না রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে জানতে পারেন, জমি বিক্রি করতে হলে আয়কর সনদ ও রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক। দিলারা বেগম জানান, তাঁর নামে কোনো আয়কর সনদ না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েন। এ সুযোগে টিন সার্টিফিকেট না থাকার অজুহাতে অফিসের এক কর্মকর্তা তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং আয়কর সনদ বা রিটার্ন ছাড়াই জমি বায়না রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে দর-কষাকষির পর ৩০ হাজার টাকায় রফা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৪ মে দিলারা বেগম ৬০ লাখ টাকা মূল্য ধার্য করা ১০ শতক জমি ৩০ লাখ টাকায় বায়না রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। দলিল নম্বর ২৩৫০।

বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৪(৭) ধারা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জমি, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয়, হস্তান্তর কিংবা বায়নানামা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অভিযোগ উঠেছে, রিটার্নের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করার এই বিধানকে অজুহাত বানিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেবল টিন সার্টিফিকেট জটিলতাই নয়, জমির শ্রেণি ও মূল্য কম-বেশি দেখিয়েও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট সেবাগ্রহীতাদের নানাভাবে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি দলিলে সামান্য ভুলের অজুহাতেও ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক জমি ক্রেতা।

শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসা বেশ কিছু জমি ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জমির দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিক্রেতার স্বত্ব নিশ্চিত করার জন্য পর্চা, খাজনা-খারিজ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১ হাজার ১০০ টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় দলিল মূল্যের সাড়ে ৭ শতাংশ ও পৌর এলাকায় সাড়ে ৯ শতাংশ হারে কর জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই নিয়ম মানা হয় না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। তাঁদের ভাষ্যমতে, নানা ফাঁকফোকর বের করে তাঁদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ দাবি করা হয় এবং ঘুষ না দিলে জমি রেজিস্ট্রি আটকে রাখা হয়।

ভুক্তভোগী কয়েকজন বাসিন্দাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। লোটাস হোসেন নামের একজন জানান, জমির পাশে ব্যক্তিগত রাস্তা থাকার কারণে তা বৈধ করাতে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল, এমনকি উত্তরাধিকার সনদের ভিত্তিতে জমি রেজিস্ট্রেশনেও তাঁর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। মো. শাহাব উদ্দিন নামের আরেকজনের অভিযোগ, দলিলে রাস্তার উল্লেখ থাকলেই সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয় এবং এই অর্থের জন্য কোনো সরকারি চালান জমা হয় না, বরং দলিল লেখকের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার নিজেই তা আদায় করেন বলে তাঁর দাবি। সুমন মিয়া নামের একজন বাসিন্দা অফিসের অবকাঠামো নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো সুরক্ষিত সীমানাপ্রাচীরের মধ্যে পরিপাটিভাবে পরিচালিত হলেও শ্রীমঙ্গল অফিসের চারপাশ খোলা এবং প্রধান ফটক ভাঙা থাকলেও তা দেখভালের কেউ নেই।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর বলেন, পৌরসভা এলাকার মধ্যে কোনো জমি রেজিস্ট্রি করতে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক এবং রিটার্ন জমা না দিলে সেবাগ্রহীতাকে অপেক্ষায় থাকতে হয়। তবে টিন সনদ না থাকা সত্ত্বেও জমি রেজিস্ট্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৮ জুলাই এনসিপি নেতা প্রীতম দাসের সুপারিশে এমন একটি দলিল সম্পাদন করা হয়েছিল, যা নিয়ে অফিসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান তিনি। তবে এ জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন সাব-রেজিস্ট্রার। দিলারা বেগমের জমি রেজিস্ট্রি করতে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ তিনি অফিসে নেই, রোববার অফিসে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।