মৌলভীবাজারে অসুস্থ সাবেক সংসদ সদস্য খালেদা রাব্বানীকে দেখতে তাঁর বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে তিনি প্রবীণ এই রাজনীতিকের বাসায় যান।
বাসায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী খালেদা রাব্বানীর শয্যাপাশে বসে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন খালেদা রাব্বানী। এ সময় তিনি তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং দলের জন্য দীর্ঘদিন নিবেদিত এই নেত্রীর সুস্থতা কামনা করেন।
খালেদা রাব্বানী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন প্রবীণ রাজনীতিক এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং বর্তমানে চলাফেরায় অক্ষম অবস্থায় মৌলভীবাজারের বাসায় রয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, তিনি দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের দিক থেকে খালেদা রাব্বানী দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের ২ এপ্রিল থেকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০০৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই বাসায় যাওয়াকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁদের ভাষ্য, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থেকেও একজন প্রবীণ ও অসুস্থ দলীয় নেত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে দেখতে যাওয়া রাজনৈতিক সৌজন্য ও মানবিক সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত।
খালেদা রাব্বানীর বাসায় সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের দুসাই রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হন।
শাহাব উদ্দিন আহমদ 














