ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo অসুস্থ সাবেক এমপি খালেদা রাব্বানীকে দেখতে বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo ‘বাজেটকে চানাচুরের সঙ্গে তুলনা যারা করে, তারা জনগণের বন্ধু নয়’—তারেক রহমান Logo শ্রীমঙ্গলে বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনস্রোত, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo শ্রীমঙ্গলে মক্তবে যাওয়ার পথে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১ Logo শ্রীমঙ্গলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিতরণ করবেন তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড Logo দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, দেশে ফেরাতে শুরু হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া Logo শ্রীমঙ্গলে কৃষকদের মাঝে এবি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণ Logo শ্রীমঙ্গলে লেবু বাগানের কাঁটাতারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু Logo ১০ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস Logo মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: যুবকের মৃত্যুদণ্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

শ্রীমঙ্গলে মসজিদের ভেতরে ইমামকে নৃশংস হত্যা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হাফিজ উল্লাহ (৮০) ওই সময় নামাজে ইমামতি করছিলেন।

রোববার (৩ মে) ভোরে উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল ফোরকানিয়া জামে মসজিদের বারান্দায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত হাফিজ উল্লাহ পশ্চিম লইয়ারকুল গ্রামের মৃত মসফ উল্লার ছেলে। অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন (৩২) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং শওকত আলীর ছেলে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের স্থায়ী ইমাম ছুটিতে থাকায় সেদিন ফজরের নামাজে ইমামতি করছিলেন হাফিজ উল্লাহ। নামাজ চলাকালে হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে অভিযুক্ত জসিম একটি কলম দিয়ে তার চোখ, মুখ ও মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

পরে তাকে মারধর করে টেনে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে যাওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জসিমকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার এসআই সজিব চৌধুরী জানান, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নেওয়া সংক্রান্ত পূর্বের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে হামলাকারীকে আটক করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, নামাজরত অবস্থায় মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন নৃশংস ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

অসুস্থ সাবেক এমপি খালেদা রাব্বানীকে দেখতে বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শ্রীমঙ্গলে মসজিদের ভেতরে ইমামকে নৃশংস হত্যা

আপডেট সময় ০৩:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হাফিজ উল্লাহ (৮০) ওই সময় নামাজে ইমামতি করছিলেন।

রোববার (৩ মে) ভোরে উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল ফোরকানিয়া জামে মসজিদের বারান্দায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত হাফিজ উল্লাহ পশ্চিম লইয়ারকুল গ্রামের মৃত মসফ উল্লার ছেলে। অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন (৩২) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং শওকত আলীর ছেলে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের স্থায়ী ইমাম ছুটিতে থাকায় সেদিন ফজরের নামাজে ইমামতি করছিলেন হাফিজ উল্লাহ। নামাজ চলাকালে হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে অভিযুক্ত জসিম একটি কলম দিয়ে তার চোখ, মুখ ও মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

পরে তাকে মারধর করে টেনে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে যাওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জসিমকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার এসআই সজিব চৌধুরী জানান, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নেওয়া সংক্রান্ত পূর্বের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে হামলাকারীকে আটক করে। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, নামাজরত অবস্থায় মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন নৃশংস ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।