ঢাকা ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo শ্রীমঙ্গলে লেবু বাগানের কাঁটাতারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু Logo ১০ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস Logo মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: যুবকের মৃত্যুদণ্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা Logo ঈদ ও পর্যটকদের আগমন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন Logo তেহরানে পাকিস্তান সেনাপ্রধান-ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক Logo মৌলভীবাজারে বাসার ছাদ থেকে পড়ে গৃহকর্মী হালিমার মৃত্যু Logo ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১৩ শিশুর মৃত্যু Logo শ্রীমঙ্গলে পৃথক অভিযানে মাদক কারবারিসহ আটক ৮, উদ্ধার ২২৫ পিস ইয়াবা Logo বিখাউজ মিডিয়া হাউজ-১” — জ্বলন্ত জয়নালদের ছাই পড়ুক ওদের মুখে Logo শ্রীমঙ্গলে সিএনজি-মাইক্রোবাস শ্রমিকদের সংঘর্ষে আহত ২০, সাংবাদিকদের ওপর হামলা

কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী আনজুম হত্যাকাণ্ডের রহস্য ১৮ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন, প্রতিবেশী যুবক গ্রেফতার

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী নাফিয়া জান্নাত আনজুম (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে প্রতিবেশী মো. জুনেল মিয়াকে (৩৯)। তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ ভিকটিমের বোরখা, স্কুলব্যাগ, বই ও একটি জুতা উদ্ধার করেছে। সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।

স্কুলছাত্রী নাফিয়া জান্নাত আনজুম
স্কুলছাত্রী নাফিয়া জান্নাত আনজুম

পুলিশ সুপার জানান, গত ১২ জুন সকাল ৭টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা নবম শ্রেণির ছাত্রী আনজুম পাশের সিংগুর গ্রামে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন তার পরিবার কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের দুইদিন পর ১৪ জুন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির পাশের ছড়ার ধারে দুর্গন্ধ পেয়ে ভিকটিমের ভাই ও মামা তার অর্ধগলিত মরদেহ খুঁজে পান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ছড়ার পাশের ঝোপে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ আনজুমের স্কুলব্যাগ, বই এবং একটি জুতা উদ্ধার করে। একইসঙ্গে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গঠন করা হয় ছয়টি বিশেষ টিম। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রতিবেশী জুনেল মিয়ার মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি দেখার রেকর্ড রয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করা হলে রাত ১২টার দিকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

জবানবন্দিতে জুনেল জানায়, সে দীর্ঘদিন ধরে আনজুমকে লক্ষ্য করে আসছিল এবং তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ার চেষ্টা করছিল। ১২ জুন সকালে প্রাইভেট শেষে আনজুম বাসায় ফেরার সময় তার পথরোধ করে। আনজুম বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে সে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে এবং চিৎকার করলে গলা চেপে ধরে, এতে আনজুম অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে পাশের ঝোপে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে ভিকটিমের জিনিসপত্রও ফেলে দেয়। তার দেখানো মতে পুলিশ কিরিম শাহ মাজারসংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানের পাশ থেকে আনজুমের বোরখাও উদ্ধার করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা (পিপিএম), কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম আপছার এবং পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য।

Write Your Comment

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীমঙ্গলে লেবু বাগানের কাঁটাতারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী আনজুম হত্যাকাণ্ডের রহস্য ১৮ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন, প্রতিবেশী যুবক গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৫:০১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী নাফিয়া জান্নাত আনজুম (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে প্রতিবেশী মো. জুনেল মিয়াকে (৩৯)। তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ ভিকটিমের বোরখা, স্কুলব্যাগ, বই ও একটি জুতা উদ্ধার করেছে। সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।

স্কুলছাত্রী নাফিয়া জান্নাত আনজুম
স্কুলছাত্রী নাফিয়া জান্নাত আনজুম

পুলিশ সুপার জানান, গত ১২ জুন সকাল ৭টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা নবম শ্রেণির ছাত্রী আনজুম পাশের সিংগুর গ্রামে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন তার পরিবার কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের দুইদিন পর ১৪ জুন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির পাশের ছড়ার ধারে দুর্গন্ধ পেয়ে ভিকটিমের ভাই ও মামা তার অর্ধগলিত মরদেহ খুঁজে পান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ছড়ার পাশের ঝোপে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ আনজুমের স্কুলব্যাগ, বই এবং একটি জুতা উদ্ধার করে। একইসঙ্গে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গঠন করা হয় ছয়টি বিশেষ টিম। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রতিবেশী জুনেল মিয়ার মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি দেখার রেকর্ড রয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করা হলে রাত ১২টার দিকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

জবানবন্দিতে জুনেল জানায়, সে দীর্ঘদিন ধরে আনজুমকে লক্ষ্য করে আসছিল এবং তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ার চেষ্টা করছিল। ১২ জুন সকালে প্রাইভেট শেষে আনজুম বাসায় ফেরার সময় তার পথরোধ করে। আনজুম বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে সে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে এবং চিৎকার করলে গলা চেপে ধরে, এতে আনজুম অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে পাশের ঝোপে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে ভিকটিমের জিনিসপত্রও ফেলে দেয়। তার দেখানো মতে পুলিশ কিরিম শাহ মাজারসংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানের পাশ থেকে আনজুমের বোরখাও উদ্ধার করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা (পিপিএম), কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম আপছার এবং পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য।