মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এনসিসি ব্যাংকের একটি শাখার ভেতরে প্রতারণার শিকার হয়ে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা খোয়ানোর অভিযোগ তুলেছেন এক বিকাশ এজেন্ট। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগীর নাম মো. রায়হান মিয়া; তিনি উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ‘ইকো শপ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিকাশ এজেন্ট।
লিখিত বক্তব্যে রায়হান মিয়া জানান, গত জুন মাসে এনসিসি ব্যাংক শ্রীমঙ্গল শাখার কর্মচারী পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে পরিচিত হন এবং বিকাশের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রস্তাব দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ জুন ওই ব্যক্তির ডাকে তিনি ব্যাংকটির শ্রীমঙ্গল শাখায় যান। তাঁর অভিযোগ, সেখানে তাঁকে ব্যাংকের স্টাফ কক্ষে বসানো হয় এবং এক কর্মচারীর মাধ্যমে প্রথমে কফি ও পরে বিরিয়ানি খাওয়ানো হয়। খাবার গ্রহণের পর তিনি অস্বাভাবিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন এবং তাঁর মধ্যে ঝিমুনিভাব তৈরি হয় বলে দাবি করেন।
রায়হান মিয়ার ভাষ্য, ওই অবস্থায় প্রতারকের দেওয়া ছয়টি বিকাশ নম্বরে ধাপে ধাপে মোট তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। প্রতারক তাঁকে আশ্বাস দেন, ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে সমপরিমাণ নগদ অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু টাকা পাঠানো শেষ হতেই ওই ব্যক্তি কৌশলে ব্যাংক থেকে সটকে পড়েন। পরে লেনদেনে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা ব্যাংকের সুনামের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। তবে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেনেন না বলে দাবি করেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে রায়হান মিয়া বলেন, একজন অপরিচিত ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘ সময় ব্যাংকের ভেতরে অবস্থান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা এবং স্টাফ কক্ষে প্রবেশের সুযোগ পেলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন হওয়া দরকার।
ভুক্তভোগী জানান, এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তাঁর দাবি, ওই ফুটেজে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ব্যাংকের সামনে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে এবং ভেতরে বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। তবে ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি। প্রতারণার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই ব্যবসায়ী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিসি ব্যাংক শ্রীমঙ্গল শাখার ব্যবস্থাপক জয়দীপ বিশ্বাস জানান, ঘটনার দিন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি দুজন নারী-পুরুষের নামে দেড় কোটি টাকার এফডিআর করার প্রস্তাব নিয়ে ব্যাংকে আসেন। তাঁর ভাষ্য, ওই ব্যক্তি কৌশলে স্টাফদের সঙ্গে সখ্য গড়ে নিজেকে ব্যাংকের কর্মী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন। ব্যবস্থাপকের দাবি, গ্রাহক হিসেবে কফি ও বিরিয়ানির আবদার করায় সৌজন্যতাবশত তা পরিবেশন করা হয়। তিনি আরও বলেন, প্রতারকের দেওয়া নম্বরে দফায় দফায় সাড়ে তিন লাখ টাকা পাঠানোর বিষয়টি বিকাশ এজেন্ট ব্যাংকের কোনো কর্মীকে জানাননি; প্রতারক ব্যাংক ত্যাগ করার পর বিকাশ এজেন্ট বিষয়টি জানালে প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়ে।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার 









