মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীমঙ্গলের নোয়াগ্রামে পারিবারিক শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
সিতেশ রঞ্জন দেবের জীবন ছিল এক অনন্য পরিবর্তনের গল্প। শৈশবে বাবার সঙ্গে শিকারে অংশ নিলেও সময়ের সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে। বন্যপ্রাণী হত্যা নয়, বরং তাদের রক্ষা ও সংরক্ষণই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। এরপর থেকে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন আহত, অসুস্থ ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীর সেবায়।
নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে প্রাণী চিকিৎসা ও পরিচর্যার কাজ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে সেই উদ্যোগই বিস্তৃত হয়ে শ্রীমঙ্গলের রূপসপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। বছরের পর বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া আহত, নির্যাতনের শিকার কিংবা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
বন বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের কাছে বন্যপ্রাণী উদ্ধারের ক্ষেত্রে সিতেশ রঞ্জন দেব ছিলেন আস্থার নাম। তাঁর উদ্যোগে চিকিৎসা শেষে হাজারো বন্যপ্রাণী আবারও তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী পাচার প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত কয়েক বছর ধরে তাঁর দুই ছেলে সজল দেব ও সঞ্জিত দেব বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পরিচর্যার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ভবিষ্যতেও তাঁরা এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।
সিতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যুতে শ্রীমঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সিতেশ রঞ্জন দেবের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্টাফ রিপোর্টার 














