সিলেট ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logo শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি, বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে অবস্থান Logo আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের এমডি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বিতর্কে সাইদ একরাম উল্লা Logo মৌলভীবাজারে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র নতুন কমিটি: আহ্বায়ক শাহ জামাল, সদস্য সচিব ইমরান, সদস্য ২৩ Logo শ্রীমঙ্গলে বৃক্ষরোপণ ও উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচিতে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী Logo ট্যাক্স রিটার্ন প্রমাণপত্রের অজুহাতে জিম্মি সেবাগ্রহীতা, শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ Logo শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক পরিচয়ে ভূমি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ, বোনের সংবাদ সম্মেলন Logo মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, স্বামী গ্রেপ্তার Logo ইসরাইলি গুলিতে প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক Logo হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর: বাংলাদেশে যাতে আবার সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া না দেয়হোলি আর্টিজান Logo ঠাকুরগাঁও থেকে একসঙ্গে নিখোঁজ চার ছাত্রী সিলেটে উদ্ধারনিখোঁজ ছাত্রী

হাওরের হৃদয়ে বাইক্কা বিল

বাইক্কাবিলে পরিযায়ী পাখিদের উড়ে বেড়ানো মনোমুগ্ধকর দৃশ্য

সবুজ চা-বাগান আর নৈসর্গিক পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত শ্রীমঙ্গল শুধু চা-এর জন্যই নয়, বরং হাওর আর বিলের অপার সৌন্দর্যের জন্যও পরিচিত। তার মধ্যেই সবচেয়ে বিখ্যাত একটি নাম বাইক্কা বিল।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের অংশ এই বাইক্কা বিল, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাখির অভয়ারণ্য এবং জলজ জীববৈচিত্র্যের অভিজ্ঞান হিসেবে বিবেচিত। ২০০৩ সালে এটি “স্থায়ী পাখির অভয়ারণ্য” হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বাইক্কা বিল বছরে প্রায় ৫-৬ মাস পানিতে ডুবে থাকে। বর্ষা মৌসুমে এখানে জমে উঠে বিশাল জলরাশি। আর সেই পানিতে খেলা করে রুই, কাতলা, টেংরা, পাবদা, বোয়ালসহ বহু জাতের মাছ। বিলজুড়ে শাপলা-শালুকের নরম বাহার আর গাছপালার ছায়ায় সৃষ্টি হয় এক মায়াবী পরিবেশ।

শীত এলে বাইক্কা বিল রূপ নেয় এক স্বপ্নের রাজ্যে। দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে হাজারো অতিথি পাখি, পাতি সরালি, পানকৌড়ি, বেগুনি কালেম, খঞ্জনা, নীলশির কাস্তেচরা সহ বহু জাতের পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে চারদিক।

স্থানীয় রফিক মিয়া বলেন, শীতে পাখিদের ঝাঁক দেখে মনে হয় আকাশও যেন নেমে এসেছে বিলে। এখানে যারা একবার আসে, বারবার ফিরে আসে।

বাইক্কা বিল এখন পর্যটকদের কাছে এক দারুণ গন্তব্য। বিলের পাশে তৈরি করা হয়েছে নজরদারি টাওয়ার, যেখানে উঠে পর্যটকরা দূরবীন দিয়ে পাখি ও প্রকৃতি দেখতে পারেন। পাশাপাশি, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ, আইইউসিএনসহ বিভিন্ন সংস্থা।

তবে সবকিছুর মাঝেও চিন্তার কারণ রয়েছে। অতিরিক্ত ধানচাষ, কীটনাশক ব্যবহার, জলজ আগাছা, ও অপ্রয়োজনীয় মাছ ধরা জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যটকদের যথাযথ নিয়ম না মানার কারণেও মাঝে মাঝে পরিবেশে ক্ষতি হয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিবেশ কর্মকর্তা বলেন, বাইক্কা বিল শুধু শ্রীমঙ্গলের সম্পদ নয়, এটা জাতীয় ঐতিহ্য। একে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

Write Your Comment

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি, বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে অবস্থান

হাওরের হৃদয়ে বাইক্কা বিল

আপডেট সময় ০৬:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

সবুজ চা-বাগান আর নৈসর্গিক পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত শ্রীমঙ্গল শুধু চা-এর জন্যই নয়, বরং হাওর আর বিলের অপার সৌন্দর্যের জন্যও পরিচিত। তার মধ্যেই সবচেয়ে বিখ্যাত একটি নাম বাইক্কা বিল।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের অংশ এই বাইক্কা বিল, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাখির অভয়ারণ্য এবং জলজ জীববৈচিত্র্যের অভিজ্ঞান হিসেবে বিবেচিত। ২০০৩ সালে এটি “স্থায়ী পাখির অভয়ারণ্য” হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বাইক্কা বিল বছরে প্রায় ৫-৬ মাস পানিতে ডুবে থাকে। বর্ষা মৌসুমে এখানে জমে উঠে বিশাল জলরাশি। আর সেই পানিতে খেলা করে রুই, কাতলা, টেংরা, পাবদা, বোয়ালসহ বহু জাতের মাছ। বিলজুড়ে শাপলা-শালুকের নরম বাহার আর গাছপালার ছায়ায় সৃষ্টি হয় এক মায়াবী পরিবেশ।

শীত এলে বাইক্কা বিল রূপ নেয় এক স্বপ্নের রাজ্যে। দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে হাজারো অতিথি পাখি, পাতি সরালি, পানকৌড়ি, বেগুনি কালেম, খঞ্জনা, নীলশির কাস্তেচরা সহ বহু জাতের পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে চারদিক।

স্থানীয় রফিক মিয়া বলেন, শীতে পাখিদের ঝাঁক দেখে মনে হয় আকাশও যেন নেমে এসেছে বিলে। এখানে যারা একবার আসে, বারবার ফিরে আসে।

বাইক্কা বিল এখন পর্যটকদের কাছে এক দারুণ গন্তব্য। বিলের পাশে তৈরি করা হয়েছে নজরদারি টাওয়ার, যেখানে উঠে পর্যটকরা দূরবীন দিয়ে পাখি ও প্রকৃতি দেখতে পারেন। পাশাপাশি, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ, আইইউসিএনসহ বিভিন্ন সংস্থা।

তবে সবকিছুর মাঝেও চিন্তার কারণ রয়েছে। অতিরিক্ত ধানচাষ, কীটনাশক ব্যবহার, জলজ আগাছা, ও অপ্রয়োজনীয় মাছ ধরা জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যটকদের যথাযথ নিয়ম না মানার কারণেও মাঝে মাঝে পরিবেশে ক্ষতি হয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিবেশ কর্মকর্তা বলেন, বাইক্কা বিল শুধু শ্রীমঙ্গলের সম্পদ নয়, এটা জাতীয় ঐতিহ্য। একে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।